|প্রতীকী ছবি
দেশি বিদেশি কোম্পানির কাছে বিপুল অংকের দেনা নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের নতুন সরকার বিদ্যুৎ খাতে একটা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়তে যাচ্ছে। রমজানের পর পরই সেচ ও গ্রীস্ম মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে পরিকল্পনা থাকলেও সমাধান করতে বেগ পেতে হবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর (IPP) পাওনাই ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। অনেক উদ্যোক্তা গত সাত-আট মাস ধরে বিল না পাওয়ায় তেল আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারছেন না।
ফলে ফার্নেস অয়েলের মজুত দ্রুত কমে আসছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই পরিস্থিতিকে ‘টোটালি ফিন্যান্সিয়ালি ব্যাংকরাপ্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এখন ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ বা সংকটকালীন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে।
বাংলাদেশে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি ১৩৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আমদানি সক্ষমতা মিলিয়ে মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। সারাদেশে বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ৪ কোটি ৯৪ লক্ষ। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২৩শে জুলাই ২০২৫ সালে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলার সংকটের কারণে কয়লা, এলএনজি ও তেল আমদানিতে ব্যাঘাত ঘটলে গ্রীষ্মে ভয়াবহ লোডশেডিং হতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেনের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বার্ষিক প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থান করা অত্যন্ত জটিল।
অন্যদিকে ক্যাবের উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম মনে করেন, তেলভিত্তিক ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কমিয়ে সাশ্রয়ী কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করলে এই সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে। তবে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে রমজান ও গরমের মৌসুমে ভর্তুকি ও ডলারের সমন্বয় করে উৎপাদন সচল রাখা।

বিবিসি বাংলা 















