জাতীয় নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তা ও ব্যাপক হারে ঋণ পুনঃতফসিলের ফলে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) খেলাপি ঋণ ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা কমেছে। ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০.৬০ শতাংশ। অথচ সেপ্টেম্বর শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা বা ৩৫.৭৩ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের শেষ দিকে ব্যাংকগুলো তাদের আর্থিক সূচক ভালো দেখাতে আদায় কার্যক্রমে যেমন জোর দেয়, তেমনি সরকারের দেওয়া ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের বিশেষ সুবিধা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়মিত করা হয়েছে। তথ্যমতে, প্রায় ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নিয়মিত করা হয়েছে। ১ হাজার ৫১৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকার পুনঃতফসিল আবেদনের মধ্যে ইতোমধ্যে বড় একটি অংশ নিষ্পত্তি করেছে ব্যাংকগুলো।
খাতভিত্তিক চিত্র:
- রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ১০৮ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৪৪.৪৪%)। তিন মাসে কমেছে ৫.২২%।
- বেসরকারি ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা (মোট ঋণের ২৮.২৫%)। তিন মাসে কমেছে ৭৩ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা।
- বিদেশি ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৪.৫১%)।
- বিশেষায়িত ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ১৮ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৩৯.৭৪%)।
খেলাপি ঋণ কমার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতিও কমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে প্রভিশন ঘাটতি যেখানে ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা, ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে ঘাটতি কমেছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিম্নমুখী প্রবণতা সাময়িক কি না, তা নির্ভর করবে নিয়মিত হওয়া ঋণগুলোর কিস্তি আদায়ের ওপর।

















