ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পুনঃতফসিল ও বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩০.৬০ শতাংশে।

৩ মাসে খেলাপি ঋণ কমল ৮৭ হাজার কোটি টাকা; নেপথ্যে নীতি সহায়তা

জাতীয় নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তা ও ব্যাপক হারে ঋণ পুনঃতফসিলের ফলে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) খেলাপি ঋণ ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা কমেছে। ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০.৬০ শতাংশ। অথচ সেপ্টেম্বর শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা বা ৩৫.৭৩ শতাংশ।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের শেষ দিকে ব্যাংকগুলো তাদের আর্থিক সূচক ভালো দেখাতে আদায় কার্যক্রমে যেমন জোর দেয়, তেমনি সরকারের দেওয়া ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের বিশেষ সুবিধা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়মিত করা হয়েছে। তথ্যমতে, প্রায় ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নিয়মিত করা হয়েছে। ১ হাজার ৫১৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকার পুনঃতফসিল আবেদনের মধ্যে ইতোমধ্যে বড় একটি অংশ নিষ্পত্তি করেছে ব্যাংকগুলো।

 

খাতভিত্তিক চিত্র:

 

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ১০৮ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৪৪.৪৪%)। তিন মাসে কমেছে ৫.২২%।
  • বেসরকারি ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা (মোট ঋণের ২৮.২৫%)। তিন মাসে কমেছে ৭৩ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা।
  • বিদেশি ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৪.৫১%)।
  • বিশেষায়িত ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ১৮ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৩৯.৭৪%)।

খেলাপি ঋণ কমার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতিও কমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে প্রভিশন ঘাটতি যেখানে ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা, ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে ঘাটতি কমেছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিম্নমুখী প্রবণতা সাময়িক কি না, তা নির্ভর করবে নিয়মিত হওয়া ঋণগুলোর কিস্তি আদায়ের ওপর।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

পুনঃতফসিল ও বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩০.৬০ শতাংশে।

৩ মাসে খেলাপি ঋণ কমল ৮৭ হাজার কোটি টাকা; নেপথ্যে নীতি সহায়তা

Update Time : ১১:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তা ও ব্যাপক হারে ঋণ পুনঃতফসিলের ফলে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) খেলাপি ঋণ ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা কমেছে। ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০.৬০ শতাংশ। অথচ সেপ্টেম্বর শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা বা ৩৫.৭৩ শতাংশ।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের শেষ দিকে ব্যাংকগুলো তাদের আর্থিক সূচক ভালো দেখাতে আদায় কার্যক্রমে যেমন জোর দেয়, তেমনি সরকারের দেওয়া ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের বিশেষ সুবিধা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়মিত করা হয়েছে। তথ্যমতে, প্রায় ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নিয়মিত করা হয়েছে। ১ হাজার ৫১৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকার পুনঃতফসিল আবেদনের মধ্যে ইতোমধ্যে বড় একটি অংশ নিষ্পত্তি করেছে ব্যাংকগুলো।

 

খাতভিত্তিক চিত্র:

 

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ১০৮ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৪৪.৪৪%)। তিন মাসে কমেছে ৫.২২%।
  • বেসরকারি ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা (মোট ঋণের ২৮.২৫%)। তিন মাসে কমেছে ৭৩ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা।
  • বিদেশি ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৪.৫১%)।
  • বিশেষায়িত ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ১৮ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৩৯.৭৪%)।

খেলাপি ঋণ কমার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতিও কমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে প্রভিশন ঘাটতি যেখানে ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা, ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে ঘাটতি কমেছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিম্নমুখী প্রবণতা সাময়িক কি না, তা নির্ভর করবে নিয়মিত হওয়া ঋণগুলোর কিস্তি আদায়ের ওপর।