ভারতের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিক ও রাসায়নিকসহ অধিকাংশ প্রধান রপ্তানি পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জিএসপি (GSP) স্থগিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নতুন এই সিদ্ধান্ত চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর করা হয়েছে, যা ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। ইউরোপীয় কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ার রপ্তানিকারকরাও বড় ধরনের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানিয়েছে, জিএসপি সুবিধা বাতিল হওয়ায় ভারতের প্রায় ৮৭ শতাংশ রপ্তানি পণ্যে এখন থেকে বাড়তি শুল্ক দিতে হবে। আগে যেখানে এসব পণ্য ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত জাতি’ বা এমএফএন শুল্কের চেয়ে গড়ে ২০ শতাংশ কম শুল্কে ইইউ বাজারে প্রবেশ করত, এখন আমদানিকারকদের পূর্ণ হারে শুল্ক গুণতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ১২ শতাংশ সাধারণ শুল্কের তৈরি পোশাক আগে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ শুল্কে রপ্তানি করা যেত, যা এখন বেড়ে সরাসরি ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের মাত্র ১৩ শতাংশ পণ্য (যেমন—কৃষি ও চামড়াজাত পণ্য) জিএসপি সুবিধার আওতায় থাকবে।
ইইউর এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় ভারতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) মতে, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম এখনও শুল্কমুক্ত বা স্বল্প শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পাওয়ায় তারা বাজারে বাড়তি সুবিধা পাবে। ভারতের মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ১৭ শতাংশ ইইউর বাজারে যায়। বর্তমানে ইইউর সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা চললেও, কার্বন কর (সিবিএএম) এবং এই জিএসপি বাতিলের জোড়া ধাক্কায় স্বল্প মেয়াদে ভারতীয় রপ্তানি খাত বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।















