ছবি: মার্কিন মডেল ও অভিনেত্রী এমিলি রাতাজকাউস্কি
আমাদের সমাজব্যবস্থায় বিবাহবিচ্ছেদ মানেই যেন এক দীর্ঘশ্বাস এবং একরাশ সামাজিক গঞ্জনা। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি কেবল আইনি বিচ্ছেদ নয়, বরং এক কঠিন সামাজিক যুদ্ধের নাম। তবে এই প্রথাগত ধ্যান-ধারণাকে পাল্টে দিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন জনপ্রিয় হচ্ছে এক নতুন সংস্কৃতি—’ডিভোর্স রিং’।
এই বিশেষ আংটি কোনো সম্পর্কের ব্যর্থতার শোক নয়, বরং নিজের স্বাধীনতা, শক্তি এবং নতুন সত্তাকে ফিরে পাওয়ার এক অনন্য প্রতীক। ব্রিটিশ সাময়িকী ‘ভোগ’-এ উঠে আসা এই প্রবণতাটি বুঝিয়ে দিচ্ছে, একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি মানেই জীবনের ইতি নয়, বরং এটি এক নতুন সম্ভাবনার জন্ম।
ডিভোর্স রিং মূলত বিয়ের বা এনগেজমেন্ট আংটির মতোই দৃষ্টিনন্দন হয়—কখনো হীরক খচিত, কখনো বা আধুনিক মিনিমাল নকশায় তৈরি। লন্ডনের প্রখ্যাত গয়না ডিজাইনার আনুশকা ডুকাসের মতে, এই আংটি বিষণ্নতার স্মারক নয়, বরং সাহস ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। তিনি নিয়মিত তার বুটিকে ‘ডিভোর্স রিং পার্টি’র আয়োজন করেন, যেখানে বিচ্ছেদপ্রাপ্ত নারী ও তাদের আইনজীবীরা এক অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে একত্রিত হন। লজ্জা বা আক্ষেপের বদলে সেখানে পারস্পরিক সমর্থন আর নতুন পথচলার প্রত্যয় ফুটে ওঠে।
ছবি: লন্ডনভিত্তিক গয়না ডিজাইনার আনুশকা ডুকাসে
এই নতুন প্রবণতাকে জনপ্রিয় করার পেছনে বিশ্বখ্যাত তারকাদের অবদান অনস্বীকার্য। মার্কিন মডেল ও অভিনেত্রী এমিলি রাতাজকাউস্কি তার বিচ্ছেদের পর এনগেজমেন্ট রিংয়ের হীরা দিয়ে নতুন দুটি আংটি তৈরি করে ইন্টারনেটে আলোড়ন তুলেছিলেন। তার এই কাজ সমাজের কাছে বার্তা দিয়েছে—অতীতকে মুছে ফেলা নয়, বরং তাকে নতুন রূপে সাজিয়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই আসল জীবন। বিচ্ছেদ উদযাপন এখন কেবল গয়নাতে সীমাবদ্ধ নেই; ট্যাটু করানো, ঘর সাজানো কিংবা ছোট পরিসরে পার্টির মাধ্যমেও নারীরা তাদের মানসিক মুক্তি প্রকাশ করছেন।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ডিভোর্স রিং সংস্কৃতি মূলত নারীর আত্মপরিচয় পুনর্গঠনের একটি নতুন ভাষা। যুগের পর যুগ ধরে বিবাহকে নারীর সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু এই প্রবণতা সেই আদিম ধারণার মূলে কুঠারাঘাত করছে। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, বিচ্ছেদ মানেই পরাজয় নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এটিই হয়ে ওঠে নিজের ভেতরের সুপ্ত শক্তিকে আবিষ্কার করার প্রথম পদক্ষেপ। বিচ্ছেদ তাই কেবল ভাঙনের গল্প নয়; এটি জীবনের এক নতুন পুনর্জন্ম।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
















