ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’ নেইমার জুনিয়র এখন ক্যারিয়ারের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বয়স ৩৪ ছুঁইছুঁই, শরীরে বারবার হানা দিচ্ছে ইনজুরি। তবে ফুটবলকে বিদায় জানানোর আগে তার চোখে একটিই স্বপ্ন—২০২৬ বিশ্বকাপ। এই লক্ষ্য পূরণে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালের পাঠ চুকিয়ে শৈশবের ঠিকানা সান্তোসে ফিরেছেন তিনি। দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে সম্প্রতি মাঠে ফিরে নেইমার বুঝিয়ে দিয়েছেন, তার পায়ের জাদু এখনও ফুরিয়ে যায়নি। গত সপ্তাহে সান্তোসের জার্সিতে বদলি হিসেবে নেমে পোলিস্তা লিগে ৬-০ গোলের বিশাল জয়ে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার চোট প্রবণতা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে এসিএল (ACL) ইনজুরিতে পড়ার পর প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে তাকে। এরপর চলতি বছরের শুরুতে সান্তোসে ফিরলেও ফিটনেস নিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে। ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দলে ফিরতে হলে নেইমারকে শতভাগ ফিট হতে হবে। এই ফিটনেস ফিরে পেতে এবং বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতেই নেইমার ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত সান্তোসের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছেন।
তবে অবসরের বিষয়টিও এখন নেইমারের ভাবনায় প্রবল। সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান চ্যানেল ‘কেজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান। নেইমার বলেন, “আমি জানি না এই সময়ের পর কী ঘটবে। সম্ভবত ডিসেম্বরেই আমি অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারি।” তিনি এখন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা না করে বছর ধরে নিজের শরীর ও মনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। তার মতে, চলতি বছরটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়, কারণ এটি বিশ্বকাপের বছর এবং তিনি তার শতভাগ নিবেদন দিয়ে শেষ একটি চেষ্টা করতে চান।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করে কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে যাওয়া এই তারকা এখন নিজের শেষ সুযোগটি কাজে লাগাতে মরিয়া। বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই জাদুকর চান ইনজুরি মুক্ত থেকে আরও একটি বিশ্বকাপ রাঙাতে। যদি তার শরীর এবং মন সায় দেয়, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে হলুদ জার্সিতে নেইমারের শেষ নাচ দেখার অপেক্ষায় থাকবে ফুটবল বিশ্ব।

স্পোর্টস ডেস্ক 















