রোজার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেহরি। হাদিস শরিফে সেহরি খাওয়াকে কেবল একটি আহার হিসেবে নয়, বরং ‘বরকতময় কাজ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সেহরি খাওয়ার সঠিক সময়, এর বিধান এবং নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সেহরি খাওয়ার সঠিক সময়
সেহরির সময় মূলত মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হয়ে সুবহে সাদিক পর্যন্ত থাকে। তবে সুন্নাহ অনুযায়ী সেহরি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ দিক রয়েছে:
- মুস্তাহাব সময়: সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব বা উত্তম।
- নবীজি (সা.)-এর আমল: সাহাবি জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, নবীজি (সা.) সেহরি খাওয়ার পর মাত্র ৫০-৬০টি আয়াত পড়ার মতো সময় বাকি থাকতেই ফজরের নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিতেন।
- সতর্কতা: বর্তমান সময়ের হিসেবে আজানের প্রায় ১৫-২০ মিনিট আগে সেহরি শেষ করা সুন্নত। তবে খেতে খেতে সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে এত দেরি করা মাকরুহ।
২. সেহরি খাওয়ার বিধান: সুন্নত না কি ফরজ?
রোজার জন্য সেহরি খাওয়া অপরিহার্য বা ফরজ নয়।
- যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সেহরি না খেয়ে রোজা রাখেন, তবে তার রোজা হয়ে যাবে এবং কোনো গুনাহ হবে না।
- তবে এটি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। তিনি বলেছেন, “তোমরা সেহরি খাও, কারণ এতে বরকত রয়েছে।” (সহিহ মুসলিম)।
- পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের অনুসারীদের (আহলে কিতাব) সাথে আমাদের রোজার প্রধান পার্থক্যই হলো সেহরি খাওয়া।
৩. সেহরিতে কতটুকু খাবার খাওয়া জরুরি?
সেহরিতে অনেক বেশি বা পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়। বরকত ও সুন্নত আদায়ের জন্য সামান্য খাবারই যথেষ্ট:
- এক ঢোক পানি: যদি খাবারের রুচি না থাকে, তবে অন্তত এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির বরকত ও সওয়াব পাওয়া যাবে।
- উত্তম খাবার খেজুর: মুমিনের সেহরির জন্য খেজুরকে অত্যন্ত চমৎকার ও উত্তম খাবার হিসেবে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ)।

নিজস্ব প্রতিবেদক 















