আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সারা দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতিতে খতমে তারাবি নামাজ আদায়ের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুসল্লিদের যাতায়াত ও খতমের ধারাবাহিকতা রক্ষার সুবিধার্থে এই অভিন্ন তিলাওয়াত পদ্ধতি অনুসরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব মসজিদের খতিব, ইমাম, মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের এই নির্দেশিকা মেনে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, সাধারণত দেশের অধিকাংশ মসজিদে খতমে তারাবির সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তিলাওয়াতের প্রচলন থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তিলাওয়াত বিভাজনে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। এতে করে কর্মজীবী ও ভ্রমণশীল মুসল্লিদের জন্য নিয়মিত কোরআন খতমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকের মনে অপূর্ণতার অনুভূতি তৈরি হয় এবং পূর্ণ খতমের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সংকট নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট ছক প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত পদ্ধতি অনুযায়ী, রমজানের প্রথম ৬ দিনে প্রতিদিন দেড় পারা করে মোট ৯ পারা তিলাওয়াত করতে হবে। পরবর্তী ২১ দিনে প্রতিদিন এক পারা করে তিলাওয়াত সম্পন্ন করার মাধ্যমে মোট ৩০ পারা পূর্ণ হবে। এই নিয়ম অনুসরণ করলে ২৭ রমজান রাতে অর্থাৎ পবিত্র শবে কদরে কোরআন খতম করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রথম তারাবি থেকে ২৭তম তারাবি পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট সুরা ও আয়াতের বিভাজন স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- প্রথম তারাবিতে সুরা ফাতিহা থেকে সুরা বাকারার ২০৩ নম্বর আয়াত পর্যন্ত এবং ২৭তম তারাবিতে সুরা নাবা থেকে সুরা নাস পর্যন্ত পাঠ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন আশা প্রকাশ করেছে যে, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে সারা দেশে ধর্মীয় আবহে একটি অভিন্ন শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন বা পেশাগত কারণে স্থান পরিবর্তন করেন, তারা যেকোনো মসজিদে নামাজ পড়লেও কোরআনের ধারাবাহিকতা থেকে বিচ্যুত হবেন না। এতে মুসল্লিদের মানসিক প্রশান্তি ও ইবাদতের একাগ্রতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 















