বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) চুক্তি আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আরোপিত পাল্টা শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (আরটি) ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৯ মাস ধরে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক আলোচনার পর এই শুল্ক হার কমাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিক হলো তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা। নতুন শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা (Cotton) এবং কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে এবং তা ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করে পুনরায় মার্কিন বাজারে রপ্তানি করে, তবে সেক্ষেত্রে কোনো শুল্ক দিতে হবে না (অর্থাৎ শূন্য আরটি হার)। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক। ফলে এই সুবিধা দেশের পোশাক খাতের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৫ সালের এপ্রিলে মার্কিন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এরপর প্রধান উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টার সরাসরি তত্ত্বাবধানে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সাথে দর কষাকষি শুরু করে। এই চুক্তিতে পণ্য ও সেবা ছাড়াও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ই–কমার্স, লেবার এবং পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ক্রয়ের অঙ্গীকার করেছে। তবে এতে দেশের অতিরিক্ত কোনো ব্যয় হবে না; বরং অন্য উৎস থেকে পণ্য আমদানির পরিবর্তে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির মাধ্যমে উৎস পরিবর্তন করা হবে। এর বিনিময়ে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক খাতের সুরক্ষা ও প্রসার নিশ্চিত হবে। যেহেতু বাংলাদেশ আগে থেকেই ডব্লিউটিও (WTO) এবং আইএলও (ILO) এর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ, তাই এই এআরটি চুক্তিতে নতুন কোনো কঠিন শর্ত আরোপিত হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 















