ঢাকা , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কোকিলের কুহুতান আর একগুচ্ছ গোলাপের আহ্বানে দিনটি রাঙাচ্ছে তরুণ-তরুণীরা; শহরজুড়ে বইছে উৎসবের হিমেল হাওয়া।

ফাল্গুনের রঙে ভালোবাসার জোয়ার: বসন্ত আর ভ্যালেন্টাইন আজ একই মোহনায়

    • প্রকৃতির নিয়ম মেনেই শীতের আলস্য কাটিয়ে আজ দুয়ারে দাঁড়িয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। পহেলা ফাল্গুনের এই লগ্নে চারদিকে শিমুল আর পলাশের লালিমা না থাকলেও বাতাসে লেগেছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। কিছুক্ষণ পরপরই কানে আসছে কোকিলের সুমিষ্ট ডাক, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি—বসন্তের প্রথম দিন। তবে এবারের ফাল্গুন আরও বেশি বিশেষ হয়ে উঠেছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের সঙ্গে একই দিনে মিলিত হওয়ায়। প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করা হলেও বাঙালি সংস্কৃতিতে আজ যেন হলুদ বসন্তী সাজ আর লাল গোলাপের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।

     

    • রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে বিনোদন কেন্দ্রগুলো আজ মুখরিত তরুণ-তরুণী ও সব বয়সী মানুষের পদচারণায়। দিনটিকে স্মরণীয় করতে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন অনেকেই। কারো হাতে এক গুচ্ছ তাজা গোলাপ, কারো খোঁপায় গাঁদা বা রজনীগন্ধার মালা। পছন্দের চকোলেট, কার্ড বা ছোট ছোট উপহারের মাধ্যমে মনের না বলা কথাগুলো প্রকাশ পাচ্ছে আজ। প্রিয় রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খাওয়া কিংবা নিভৃতে কোনো পার্কে বসে হাতে হাত রেখে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একরাশ ভালোবাসা।

     

    • অনেকেই আবার প্রাচীন রীতি মেনে চিঠির মাধ্যমে প্রকাশ করছেন হৃদয়ের গভীর অনুভূতি।
    • তবে ভালোবাসা দিবস পালনের ইতিহাস ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনমনে রয়েছে ভিন্নমতও। অনেকের মতে, ভালোবাসার জন্য বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন নেই। ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, ২৬৯ সালে ইতালির রোমে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস নামক একজন খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসকের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তৎকালীন রাজা তাকে ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে তাঁর ত্যাগের স্মরণে এই দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা শুরু হয়। পাশ্চাত্যে এই উৎসব বড় পরিসরে উদযাপিত হলেও বর্তমানে বাংলাদেশেও এটি এক বিশাল সামাজিক উৎসবে রূপ নিয়েছে, যা এখন পহেলা ফাল্গুনের ঐতিহ্যবাহী রঙে একীভূত।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কোকিলের কুহুতান আর একগুচ্ছ গোলাপের আহ্বানে দিনটি রাঙাচ্ছে তরুণ-তরুণীরা; শহরজুড়ে বইছে উৎসবের হিমেল হাওয়া।

ফাল্গুনের রঙে ভালোবাসার জোয়ার: বসন্ত আর ভ্যালেন্টাইন আজ একই মোহনায়

Update Time : ১০:৩৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
    • প্রকৃতির নিয়ম মেনেই শীতের আলস্য কাটিয়ে আজ দুয়ারে দাঁড়িয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। পহেলা ফাল্গুনের এই লগ্নে চারদিকে শিমুল আর পলাশের লালিমা না থাকলেও বাতাসে লেগেছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। কিছুক্ষণ পরপরই কানে আসছে কোকিলের সুমিষ্ট ডাক, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি—বসন্তের প্রথম দিন। তবে এবারের ফাল্গুন আরও বেশি বিশেষ হয়ে উঠেছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের সঙ্গে একই দিনে মিলিত হওয়ায়। প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করা হলেও বাঙালি সংস্কৃতিতে আজ যেন হলুদ বসন্তী সাজ আর লাল গোলাপের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।

     

    • রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে বিনোদন কেন্দ্রগুলো আজ মুখরিত তরুণ-তরুণী ও সব বয়সী মানুষের পদচারণায়। দিনটিকে স্মরণীয় করতে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন অনেকেই। কারো হাতে এক গুচ্ছ তাজা গোলাপ, কারো খোঁপায় গাঁদা বা রজনীগন্ধার মালা। পছন্দের চকোলেট, কার্ড বা ছোট ছোট উপহারের মাধ্যমে মনের না বলা কথাগুলো প্রকাশ পাচ্ছে আজ। প্রিয় রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খাওয়া কিংবা নিভৃতে কোনো পার্কে বসে হাতে হাত রেখে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একরাশ ভালোবাসা।

     

    • অনেকেই আবার প্রাচীন রীতি মেনে চিঠির মাধ্যমে প্রকাশ করছেন হৃদয়ের গভীর অনুভূতি।
    • তবে ভালোবাসা দিবস পালনের ইতিহাস ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনমনে রয়েছে ভিন্নমতও। অনেকের মতে, ভালোবাসার জন্য বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন নেই। ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, ২৬৯ সালে ইতালির রোমে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস নামক একজন খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসকের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তৎকালীন রাজা তাকে ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে তাঁর ত্যাগের স্মরণে এই দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা শুরু হয়। পাশ্চাত্যে এই উৎসব বড় পরিসরে উদযাপিত হলেও বর্তমানে বাংলাদেশেও এটি এক বিশাল সামাজিক উৎসবে রূপ নিয়েছে, যা এখন পহেলা ফাল্গুনের ঐতিহ্যবাহী রঙে একীভূত।