গাইবান্ধা–৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ব্যালট পেপার ছিনতাই, পুলিশের ওপর হামলা এবং জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার মতো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে হরিরামপুর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ১ হাজার ৪০০টি ব্যালট পেপার লুট করে নিয়ে যায় বিক্ষুব্ধ কর্মীরা।
স্থানীয় ও নির্বাচনী সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে সাতটায় আসনের ১৪২টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শুরুর দিকে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তবে দিনের শেষভাগে বিকেল চারটার দিকে হরিরামপুর ইউনিয়নের বড়দহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভোট কারচুপির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকারের ভাতিজা মমিরুল ইসলামকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মমিরুল ইসলামকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জামায়াত কর্মীরা তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে হামলাকারীরা কেন্দ্র থেকে এক হাজার চারশ’ ব্যালট পেপার লুট করে নিয়ে যায়। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোজাহিদুল ইসলাম ব্যালট পেপার লুটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে দুপুরে মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অন্যজনের পরিচয়ে ভোট দিতে এসে ধরা পড়েন তিনজন ভুয়া ভোটার। তাঁদেরও তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন জানান, বড়দহ কেন্দ্রের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লুট হওয়া ব্যালট পেপার উদ্ধার এবং পুলিশের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। উল্লেখ্য, এই আসনে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৪ জন ভোটার রয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























