ঢাকা , শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কোনো আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তির মুখে পড়ছে না বাংলাদেশ; ২০৩১ সালের আগে আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে বিসিবি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলায় মিলল ‘আইসিসি’র দায়মুক্তি, উল্টো বড় সুখবর পেল বিসিবি

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বড় কোনো বিপদে পড়ছে না। আইসিসি নিশ্চিত করেছে যে, এই সিদ্ধান্তের জন্য বিসিবির ওপর কোনো ধরনের আর্থিক, ক্রিকেটীয় কিংবা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হবে না। বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিকাশে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

 

সম্প্রতি লাহোরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চলমান সংকটের আবহে আইসিসি প্রতিনিধি দলের সাথে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার রাতে আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই বৈঠকের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আইসিসি বলেছে, আলোচনা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং গঠনমূলক ছিল, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

 

বিসিবির অবস্থান স্পষ্ট করে আইসিসি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি গর্বিত ইতিহাস রয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের প্রসারে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০ কোটিরও বেশি ক্রিকেটপাগল ভক্তের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব আইসিসির কাছে অপরিসীম। তাই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করা সত্ত্বেও দেশটির ক্রিকেটের ওপর যেন কোনো দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।

 

শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার পাশাপাশি বিসিবির জন্য বাড়তি বড় প্রাপ্তি হচ্ছে নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা। আইসিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও শর্ত পূরণ করতে পারলে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশে আরেকটি বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এছাড়া, বিসিবি যদি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ‘বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি’ বা ডিআরসি-র দ্বারস্থ হতে চায়, তবে সেই আইনি অধিকারও বিসিবির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

 

আইসিসির এই অবস্থানকে নিরপেক্ষতা এবং ন্যায্যতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের দুপুরে শাহী স্বাদে ‘বাটার চিকেন বিরিয়ানি’

কোনো আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তির মুখে পড়ছে না বাংলাদেশ; ২০৩১ সালের আগে আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে বিসিবি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলায় মিলল ‘আইসিসি’র দায়মুক্তি, উল্টো বড় সুখবর পেল বিসিবি

Update Time : ১২:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বড় কোনো বিপদে পড়ছে না। আইসিসি নিশ্চিত করেছে যে, এই সিদ্ধান্তের জন্য বিসিবির ওপর কোনো ধরনের আর্থিক, ক্রিকেটীয় কিংবা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হবে না। বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিকাশে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

 

সম্প্রতি লাহোরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চলমান সংকটের আবহে আইসিসি প্রতিনিধি দলের সাথে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার রাতে আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই বৈঠকের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আইসিসি বলেছে, আলোচনা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং গঠনমূলক ছিল, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

 

বিসিবির অবস্থান স্পষ্ট করে আইসিসি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি গর্বিত ইতিহাস রয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের প্রসারে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০ কোটিরও বেশি ক্রিকেটপাগল ভক্তের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব আইসিসির কাছে অপরিসীম। তাই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করা সত্ত্বেও দেশটির ক্রিকেটের ওপর যেন কোনো দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।

 

শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার পাশাপাশি বিসিবির জন্য বাড়তি বড় প্রাপ্তি হচ্ছে নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা। আইসিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও শর্ত পূরণ করতে পারলে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশে আরেকটি বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এছাড়া, বিসিবি যদি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ‘বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি’ বা ডিআরসি-র দ্বারস্থ হতে চায়, তবে সেই আইনি অধিকারও বিসিবির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

 

আইসিসির এই অবস্থানকে নিরপেক্ষতা এবং ন্যায্যতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে স্বস্তি নিয়ে এসেছে।