বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা পেসার জাহানারা আলমের তোলা যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জাহানারার আনা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির সপক্ষে দালিলিক ও প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করেছে কমিটি।
২০২২ সালের নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালীন দক্ষিণ আফ্রিকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন জাহানারা। গত বছরের শেষের দিকে ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জানান, তৎকালীন ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামসহ একাধিক কর্মকর্তা তাঁর ও তাঁর সতীর্থদের সাথে চরম ‘অশোভন আচরণ’ করেছেন। জাহানারার দাবি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের উৎসাহ দেওয়ার নামে অপ্রাসঙ্গিক শারীরিক স্পর্শ এবং জোরপূর্বক আলিঙ্গনের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটত।
অভিযুক্ত ৪৬ বছর বয়সী মঞ্জুরুল ইসলাম অবশ্য শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। বিসিবির সাথে তাঁর চুক্তির মেয়াদ গত বছরের ৩০ জুন শেষ হলেও এই তদন্তের ফলাফল তাঁর ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মঞ্জুরুল দাবি করেছেন, “এই সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। প্রয়োজনে দলের অন্য খেলোয়াড়দেরও জিজ্ঞেস করা হোক।” তবে তদন্ত কমিটি ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশের নারী ক্রিকেটে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই তদন্তের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। জাহানারার এই সাহসী পদক্ষেপ নারী ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘদিনের চাপা পড়া ক্ষোভ ও হয়রানির বিরুদ্ধে এক বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্পোর্টস ডেস্ক 















