সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তখন যোগ করা সময়ের খেলা চলছে। গ্যালারিতে ড্রয়ের শঙ্কা আর মাঠে রেফারির শেষ বাঁশির অপেক্ষা। ঠিক এমন সময় নাটকের চূড়ান্ত দৃশ্য মঞ্চস্থ করলেন কিলিয়ান এমবাপে। ডি-বক্সের ভেতরে ফাউল থেকে পাওয়া পেনাল্টিতে লক্ষ্যভেদ করে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদকে এনে দিলেন ২-১ গোলের এক নাটকীয় জয়। এই জয়ে ২২ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান মাত্র ১ পয়েন্টে নামিয়ে আনলো লস ব্লাঙ্কোসরা।
ঘরের মাঠে তুলনামূলক দুর্বল রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে রিয়াল শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। ম্যাচের ১৪তম মিনিটেই ব্রাহিম দিয়াজের দারুণ এক পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন ভিনিসিয়ূস জুনিয়র। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আলভারো আরবেওলার দল। পুরো ম্যাচে ৫৭ শতাংশ বল দখল এবং ২৩টি শট নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে লিড বড় করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্তব্ধ হয়ে যায় বার্নাব্যু। বিরতি থেকে ফেরার মাত্র চার মিনিটের মাথায় জর্জ ডি ফ্রুটোস গোল করে রায়ো ভায়েকানোকে সমতায় ফেরান। এরপর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া রিয়াল একের পর এক আক্রমণ চালালেও ভায়েকানোর রক্ষণভাগ ভাঙা যাচ্ছিল না। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ১-১ ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই ঘটে সেই কাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন আলফোনসো এস্পিনো, আর পেনাল্টি পায় রিয়াল। পেনাল্টি স্পট থেকে এমবাপে ভুল করেননি, নিশ্চিত করেন দলের মূল্যবান ৩ পয়েন্ট।
এই জয়ের ফলে ২২ ম্যাচ শেষে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার ঠিক পরেই ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান করছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। অন্যদিকে, হারলেও লড়াকু ফুটবল খেলা রায়ো ভায়েকানো ২২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৭তম স্থানে অবস্থান করছে। শিরোপা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এই জয় রিয়াল শিবিরকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

















