ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৯০% কেন্দ্রে ক্যামেরা ও ৪১৮টি ড্রোন মোতায়েন; ৪ কোটি তরুণের অংশগ্রহণ ও ৯ লাখ ফোর্স নিয়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

৯০% কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও আকাশে ড্রোন: ইতিহাসের সবচেয়ে ডিজিটাল নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন এক ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশের মোট ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি মাঠপর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করবেন নির্বাচন কমিশনাররা। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট বা যেকোনো কারচুপি ঠেকাতে এই ক্যামেরাগুলো সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

 

প্রযুক্তির এই নজরদারি কেবল সিসি ক্যামেরাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আকাশ থেকে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণে প্রথমবারের মতো ৪১৮টি ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মাঠে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শরীরে থাকবেবডিওর্ন ক্যামেরা’, যার মাধ্যমে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির লাইভ ফিড সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে চলে আসবে। প্রযুক্তির পাশাপাশি ভৌত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। কমিশনের দাবি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এত বিপুল পরিমাণ সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ফোর্স একসঙ্গে নিয়োজিত করা হয়নি।

 

নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে গত দুই মাসে বিশেষ অভিযানে ৮৫০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এবারের ভোটার উপস্থিতি ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, এবার ভোটের ভাগ্য নির্ধারণের মূল কারিগর হবে প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটার। প্রযুক্তিনির্ভর এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের নিশ্চয়তা পাওয়ায় বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই কর্মযজ্ঞ দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

৯০% কেন্দ্রে ক্যামেরা ও ৪১৮টি ড্রোন মোতায়েন; ৪ কোটি তরুণের অংশগ্রহণ ও ৯ লাখ ফোর্স নিয়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

৯০% কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও আকাশে ড্রোন: ইতিহাসের সবচেয়ে ডিজিটাল নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ

Update Time : ১০:১৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন এক ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশের মোট ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি মাঠপর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করবেন নির্বাচন কমিশনাররা। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট বা যেকোনো কারচুপি ঠেকাতে এই ক্যামেরাগুলো সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

 

প্রযুক্তির এই নজরদারি কেবল সিসি ক্যামেরাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আকাশ থেকে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণে প্রথমবারের মতো ৪১৮টি ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মাঠে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শরীরে থাকবেবডিওর্ন ক্যামেরা’, যার মাধ্যমে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির লাইভ ফিড সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে চলে আসবে। প্রযুক্তির পাশাপাশি ভৌত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। কমিশনের দাবি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এত বিপুল পরিমাণ সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ফোর্স একসঙ্গে নিয়োজিত করা হয়নি।

 

নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে গত দুই মাসে বিশেষ অভিযানে ৮৫০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এবারের ভোটার উপস্থিতি ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, এবার ভোটের ভাগ্য নির্ধারণের মূল কারিগর হবে প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটার। প্রযুক্তিনির্ভর এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের নিশ্চয়তা পাওয়ায় বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই কর্মযজ্ঞ দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।