ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই

রামিসা হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হবে ৭ দিনেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানীর চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আজ রবিবারই আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রবিবার এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

 

আজকের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রামিসা হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত চার্জশিট আজই আদালতে জমা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি বিশেষ আদালতের মাধ্যমে আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে। যদিও এটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার, তবুও সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করা হচ্ছে। অপরাধের যে ভয়াবহতা, তাতে আমরা আশা করছি মহামান্য আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।”

 

 

সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, শিশু রামিসা হত্যা মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্রের খসড়া তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যাদি পুলিশের আধুনিক ‘ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (CDMS) সফটওয়্যারে ডেটা এন্ট্রি করাসহ কিছু কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই আনুষ্ঠানিকতা শেষেই আজ তা আদালতে পেশ করা হবে। চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তারকে ইতিমধ্যে কড়া পুলিশি পাহারায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টে হাজির করা হয়েছে।

 

 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন, পাশবিক এই ঘটনার ঠিক পূর্বে তিনি উচ্চমাত্রার মাদক ‘ইয়াবা’ সেবন করেছিলেন। মাদকের তীব্র নেশায় বিকারগ্রস্ত হয়েই তিনি শিশু রামিসাকে প্রথমে উপর্যুপরি ধর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে তার পরিচয় গোপন করতে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

 

 

সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রামিসাকে যখন ঘরের ভেতর ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হচ্ছিল, তখন মূল আসামি সোহেল তার নিজের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অন্য একটি কক্ষে আটকে রেখেছিলেন। রামিসার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুম করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল খুনিরা। তবে নিখোঁজ রামিসার সন্ধানে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা সন্দেহবশত ওই বাড়ির দরজা ভেঙে হঠাৎ ভেতরে ঢুকে পড়েন। বেগতিক দেখে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার আরেক সহযোগী জানালার গ্রিল ভেঙে তাৎক্ষণিক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, ঘরের ভেতর আটকে থাকা স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে স্থানীয় জনতা হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

শিশু রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই

রামিসা হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হবে ৭ দিনেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

Update Time : ০২:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানীর চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আজ রবিবারই আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রবিবার এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

 

আজকের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রামিসা হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত চার্জশিট আজই আদালতে জমা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি বিশেষ আদালতের মাধ্যমে আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে। যদিও এটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার, তবুও সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করা হচ্ছে। অপরাধের যে ভয়াবহতা, তাতে আমরা আশা করছি মহামান্য আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।”

 

 

সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, শিশু রামিসা হত্যা মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্রের খসড়া তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যাদি পুলিশের আধুনিক ‘ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (CDMS) সফটওয়্যারে ডেটা এন্ট্রি করাসহ কিছু কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই আনুষ্ঠানিকতা শেষেই আজ তা আদালতে পেশ করা হবে। চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তারকে ইতিমধ্যে কড়া পুলিশি পাহারায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টে হাজির করা হয়েছে।

 

 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন, পাশবিক এই ঘটনার ঠিক পূর্বে তিনি উচ্চমাত্রার মাদক ‘ইয়াবা’ সেবন করেছিলেন। মাদকের তীব্র নেশায় বিকারগ্রস্ত হয়েই তিনি শিশু রামিসাকে প্রথমে উপর্যুপরি ধর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে তার পরিচয় গোপন করতে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

 

 

সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রামিসাকে যখন ঘরের ভেতর ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হচ্ছিল, তখন মূল আসামি সোহেল তার নিজের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অন্য একটি কক্ষে আটকে রেখেছিলেন। রামিসার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুম করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল খুনিরা। তবে নিখোঁজ রামিসার সন্ধানে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা সন্দেহবশত ওই বাড়ির দরজা ভেঙে হঠাৎ ভেতরে ঢুকে পড়েন। বেগতিক দেখে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার আরেক সহযোগী জানালার গ্রিল ভেঙে তাৎক্ষণিক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, ঘরের ভেতর আটকে থাকা স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে স্থানীয় জনতা হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।