ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১ বছর পর টাঙ্গাইলে তারেক রহমান; তাঁতের শাড়ি রপ্তানি ও কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারার নির্দেশ

‘৫ আগস্টের স্বপ্ন পূরণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালটে’: টাঙ্গাইলে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ

দীর্ঘ ২১ বছর পর টাঙ্গাইল সফরে এসে রাজনীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি পথসভায় তিনি বলেন, “৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য ছিল না; এই পরিবর্তন হতে হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন। ঠিক তেমনিভাবে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কেবল একটি নির্বাচনের দিন হলে চলবে না, এটি হতে হবে এ দেশের কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের চূড়ান্ত মুহূর্ত।”

 

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “আমরা দেখেছি বড় বড় শহরে মেগা প্রজেক্টের আড়ালে কীভাবে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। সাধারণ মানুষ খুনের শিকার হয়েছে, গুম ও গায়েবি মামলার যন্ত্রণায় ছটফট করেছে। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে ৫ আগস্টের মতো আবারও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা না যায়, তবে আমাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের অর্জন বাধাগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, সেই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, বরং দেশের প্রকৃত মালিক জনগণই নেবে।

 

টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “টাঙ্গাইলের বিশ্বখ্যাত তাঁতের শাড়ি এবং সুস্বাদু আনারস বিদেশে রপ্তানি করার বিশেষ পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করে আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই।” কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিশ্চিত করার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। বক্তব্যের শেষে তিনি নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন, যা জনসভায় বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করে। এসময় তারেক রহমান টাঙ্গাইলের আটটি আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। সভায় বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, আহমেদ আযম খান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ২১ বছর পর তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো টাঙ্গাইল জেলা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

২১ বছর পর টাঙ্গাইলে তারেক রহমান; তাঁতের শাড়ি রপ্তানি ও কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারার নির্দেশ

‘৫ আগস্টের স্বপ্ন পূরণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালটে’: টাঙ্গাইলে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ

Update Time : ০৮:১৮:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ২১ বছর পর টাঙ্গাইল সফরে এসে রাজনীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি পথসভায় তিনি বলেন, “৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য ছিল না; এই পরিবর্তন হতে হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন। ঠিক তেমনিভাবে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কেবল একটি নির্বাচনের দিন হলে চলবে না, এটি হতে হবে এ দেশের কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের চূড়ান্ত মুহূর্ত।”

 

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “আমরা দেখেছি বড় বড় শহরে মেগা প্রজেক্টের আড়ালে কীভাবে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। সাধারণ মানুষ খুনের শিকার হয়েছে, গুম ও গায়েবি মামলার যন্ত্রণায় ছটফট করেছে। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে ৫ আগস্টের মতো আবারও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা না যায়, তবে আমাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের অর্জন বাধাগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, সেই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, বরং দেশের প্রকৃত মালিক জনগণই নেবে।

 

টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “টাঙ্গাইলের বিশ্বখ্যাত তাঁতের শাড়ি এবং সুস্বাদু আনারস বিদেশে রপ্তানি করার বিশেষ পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করে আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই।” কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিশ্চিত করার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। বক্তব্যের শেষে তিনি নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন, যা জনসভায় বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করে। এসময় তারেক রহমান টাঙ্গাইলের আটটি আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। সভায় বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, আহমেদ আযম খান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ২১ বছর পর তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো টাঙ্গাইল জেলা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।