দীর্ঘ ২২ বছর পর ঐতিহ্যবাহী রেশম নগরী রাজশাহীতে পা রাখলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি রাজশাহীর শাহমখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ২০০৪ সালে দলীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে শেষবার রাজশাহী সফর করেছিলেন তিনি। প্রায় দুই যুগ পর দলীয় প্রধান হিসেবে তাঁর এই প্রথম সফরকে কেন্দ্র করে গোটা উত্তরবঙ্গে এখন সাজ সাজ রব।
বিমানবন্দরে অবতরণের পর তারেক রহমানের হযরত শাহমখদুম (র.) দরগা শরিফ জিয়ারত করার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি যোগ দেবেন রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায়। সকাল থেকেই রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সভাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছেন। দুপুর গড়াতেই মাঠের অর্ধেকের বেশি অংশ পূর্ণ হয়ে গেছে এবং পার্শ্ববর্তী রাস্তাগুলোতেও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
রাজশাহী অঞ্চলের ১৩টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই সফর নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল কাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তারেক রহমান এই জনসভা থেকে রাজশাহীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করবেন। কেউ কেউ সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ আর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান প্রিয় নেতার কাছ থেকে। মূলত নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এবং নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই তাঁর এই ঝটিকা সফর।
রাজশাহীর কর্মসূচি শেষ করে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারেক রহমান নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সন্ধ্যায় নওগাঁর এটিএম মাঠে জনসভা শেষ করে তিনি পৌঁছাবেন নিজের জন্মস্থান ও নির্বাচনী এলাকা বগুড়ায়। রাত ৮টায় বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে এক বিশাল জনসভায় তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের নেতাকর্মীরাও যোগ দেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে তারেক রহমানের এই উত্তরবঙ্গ সফর ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে বড় ধরনের গণজোয়ার সৃষ্টি করতে পারে।















