বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন আজ। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন এবং আইনি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতা তারেক রহমান।
২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে আটকের পর ১৮ মাস কারাবরণ এবং পরবর্তীতে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমানোর দীর্ঘ সতেরো বছর পর, গত ২৫শে ডিসেম্বর তিনি বীরের বেশে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং পরবর্তী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
তারেক রহমানের রাজনীতিতে ফেরার পথটি ছিল কণ্টকাকীর্ণ। লন্ডনে থাকাকালীন তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছেন। গত ডিসেম্বরে যখন তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে, সেই সংকটময় মুহূর্তে তিনি দেশে ফেরার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর আগমনে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল, তারই প্রতিফলন ঘটেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
আজ বিকেলেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাজপথের দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রবাস জীবনের অবসান ঘটল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন ব্যক্তির ফেরা নয়, বরং দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক মেরুকরণের এক চূড়ান্ত পরিবর্তন। সরকার প্রধান হিসেবে এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। সতেরো বছরের প্রবাস জীবন থেকে এসে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ পদে তাঁর এই আসীন হওয়াকে বিশ্ব গণমাধ্যমগুলো “আধুনিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত প্রত্যাবর্তন” হিসেবে আখ্যায়িত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























