বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কে এক নতুন মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের জন্য সর্বমোট ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে সৌদি সরকার, যার মধ্যে সাড়ে সাত লাখই রয়েছে কাজের ভিসা (ওয়ার্ক পারমিট)।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বর্তমানে সৌদি আরবে চলমান ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সেখানে কাজের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সৌদি আরবকে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং ১৯৭৭ সালে তার ঐতিহাসিক সৌদি সফরের স্মৃতিচারণ করেন। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও স্থিতিশীলতায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশেষ করে, ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়ার অনুরোধে ২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক সহায়তা এবং বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য তাদের নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং ভূ-কৌশলগত খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বর্তমান সরকারের প্রতি তার দেশের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত।
প্রতিমন্ত্রী সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে ক্রাউন প্রিন্সের সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 























