সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের ‘সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস’ বা আত্মরক্ষা বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি জাপান।আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুটটির নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মাঝে টোকিও তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা সম্প্রতি এই বিষয়ে সরকারের দোদুল্যমান পরিস্থিতির কথা সংবাদমাধ্যমকে জানান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের বদলে মাইন অপসারণের মতো বিশেষায়িত কাজে জাপানি বাহিনীকে ব্যবহার করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, জাপান বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই সমঝোতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। টোকিও মনে করে, সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করাই এই মুহূর্তে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
কিয়োদো নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, কিহারা বর্তমান পরিস্থিতির গভীরতা বিশ্লেষণ করে বলেছেন—জাপানের জন্য এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো অঞ্চলের উত্তেজনা কমিয়ে আনা। তবে একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেও তিনি জরুরি বলে মনে করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নিরাপত্তা কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং তা বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাপানের প্রয়োজনীয় জ্বালানির সিংহভাগ সরবরাহ করা হয়, ফলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
জাপান সরকার একদিকে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগের চাপ অনুভব করছে, অন্যদিকে নিজেদের শান্তিবাদী সংবিধানের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণ মিলিয়েই জাপান তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।















