ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর এখন রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করছে বিএনপি। আগামী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অথবা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, বঙ্গভবন ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে এই সম্ভাব্য সময়ের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ইতোমধ্যে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল যাচাই–বাছাই শেষে নির্বাচিতদের নাম ও পরিচয় সম্বলিত অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশ করেছে। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে বিজয়ীদের শপথ গ্রহণ আবশ্যক। বঙ্গভবনের একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, সোমবার সকালে সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে, যা পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর ওই দিন বিকেলেই বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, আপাতত ১৭ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করেই যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিএনপির শরিকরা পেয়েছে আরও ৩টি আসন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। বাকি ৮টি আসনে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ছোট দল জয়ী হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম–২ ও ৪ আসনের ফলাফল স্থগিত থাকলেও সেখানে বিএনপির প্রার্থীরাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা তারেক রহমানকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভা। রমজান শুরুর আগেই সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশ পরিচালনায় গতি ফেরাতে চায় বিজয়ী রাজনৈতিক শক্তি। বর্তমানে বঙ্গভবন ও সংসদ সচিবালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে শেষ মুহূর্তের ধোয়া–মোছা ও নিরাপত্তা মহড়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













