ঢাকা , রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সঠিক সানস্ক্রিন নির্বাচনের নিয়ম ও ঘাম থেকে মুক্তির উপায়

সানস্ক্রিন মাখলে কেন মুখ ঘামে? জেনে নিন সমাধান

সংগৃহীত ছবি

 

তপ্ত রোদে চামড়া পোড়া ভাব এবং কালচে ছোপ পড়া থেকে রক্ষা পেতে সানস্ক্রিন এখন প্রসাধন নয়, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। গরমের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা ত্বক সুরক্ষায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। তবে সাধারণ একটি ভুল ধারণা হলো—অনেকে কেবল গ্রীষ্মকালেই এটি ব্যবহার করেন; অথচ সারা বছর এমনকি মেঘলা দিনেও ত্বকের সুরক্ষায় সানস্ক্রিন লাগানো অপরিহার্য।

 

 

অনেকেরই সাধারণ অভিযোগ হলো, সানস্ক্রিন লাগালেই মুখ অতিরিক্ত ঘেমে যায় এবং এক ধরনের আঠালো অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি প্রকট। ঘাম ও বাতাসের ময়লা জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। কিন্তু এই সমস্যার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং নিজের ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পণ্যটি বেছে নেওয়াই হবে আসল সমাধান।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের জন্য জেল (Gel) বা হালকা তরল (Fluid) ধরনের সানস্ক্রিন সবচেয়ে উপযোগী। অন্যদিকে, শুষ্ক বা স্বাভাবিক ত্বকের জন্য ক্রিম-ভিত্তিক (Cream-based) সানস্ক্রিন ভালো কাজ করে। আবার সাধারণ বা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ম্যাট (Matte) বা পাউডার-ফিনিশ সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ঘাম ও তেলের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে প্যারাবেন বা অ্যালকোহলমুক্ত সানস্ক্রিন কেনা জরুরি।

 

 

সানস্ক্রিন কেনার সময় উপাদানের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। অক্সিবেনজ়োন বা অকটিনঅক্সেটের মতো রাসায়নিক উপাদান অনেক সময় ত্বকে জ্বালা বা র‍্যাশ তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধি বা এসেনশিয়াল অয়েল থাকলেও সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। সুরক্ষার জন্য এসপিএফ (SPF) ১৫ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকা ভালো। এসপিএফ যত বেশি হবে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে সুরক্ষাও তত দীর্ঘস্থায়ী হবে।

 

 

যাদের সানস্ক্রিন মাখলে বেশি ঘাম হয়, তারা লাগানোর আগে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে নিতে পারেন। একটি বিশেষ টিপস হলো—সানস্ক্রিন লাগানোর আগে ত্বকে ‘ভিটামিন সি সিরাম’ ব্যবহার করা। এটি ত্বককে ভেতর থেকে সতেজ রাখে এবং সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়। সঠিক নিয়ম মেনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে রোদে পোড়া দাগ (Sunburn) এবং অকাল বার্ধক্য থেকে ত্বককে রক্ষা করা সম্ভব।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জন্মদিনে শাকিবের ‘রকস্টার’ লুকে নেটদুনিয়ায় তোলপাড়

সঠিক সানস্ক্রিন নির্বাচনের নিয়ম ও ঘাম থেকে মুক্তির উপায়

সানস্ক্রিন মাখলে কেন মুখ ঘামে? জেনে নিন সমাধান

Update Time : ০৬:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

তপ্ত রোদে চামড়া পোড়া ভাব এবং কালচে ছোপ পড়া থেকে রক্ষা পেতে সানস্ক্রিন এখন প্রসাধন নয়, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। গরমের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা ত্বক সুরক্ষায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। তবে সাধারণ একটি ভুল ধারণা হলো—অনেকে কেবল গ্রীষ্মকালেই এটি ব্যবহার করেন; অথচ সারা বছর এমনকি মেঘলা দিনেও ত্বকের সুরক্ষায় সানস্ক্রিন লাগানো অপরিহার্য।

 

 

অনেকেরই সাধারণ অভিযোগ হলো, সানস্ক্রিন লাগালেই মুখ অতিরিক্ত ঘেমে যায় এবং এক ধরনের আঠালো অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি প্রকট। ঘাম ও বাতাসের ময়লা জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। কিন্তু এই সমস্যার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং নিজের ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পণ্যটি বেছে নেওয়াই হবে আসল সমাধান।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের জন্য জেল (Gel) বা হালকা তরল (Fluid) ধরনের সানস্ক্রিন সবচেয়ে উপযোগী। অন্যদিকে, শুষ্ক বা স্বাভাবিক ত্বকের জন্য ক্রিম-ভিত্তিক (Cream-based) সানস্ক্রিন ভালো কাজ করে। আবার সাধারণ বা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ম্যাট (Matte) বা পাউডার-ফিনিশ সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ঘাম ও তেলের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে প্যারাবেন বা অ্যালকোহলমুক্ত সানস্ক্রিন কেনা জরুরি।

 

 

সানস্ক্রিন কেনার সময় উপাদানের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। অক্সিবেনজ়োন বা অকটিনঅক্সেটের মতো রাসায়নিক উপাদান অনেক সময় ত্বকে জ্বালা বা র‍্যাশ তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধি বা এসেনশিয়াল অয়েল থাকলেও সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। সুরক্ষার জন্য এসপিএফ (SPF) ১৫ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকা ভালো। এসপিএফ যত বেশি হবে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে সুরক্ষাও তত দীর্ঘস্থায়ী হবে।

 

 

যাদের সানস্ক্রিন মাখলে বেশি ঘাম হয়, তারা লাগানোর আগে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে নিতে পারেন। একটি বিশেষ টিপস হলো—সানস্ক্রিন লাগানোর আগে ত্বকে ‘ভিটামিন সি সিরাম’ ব্যবহার করা। এটি ত্বককে ভেতর থেকে সতেজ রাখে এবং সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়। সঠিক নিয়ম মেনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে রোদে পোড়া দাগ (Sunburn) এবং অকাল বার্ধক্য থেকে ত্বককে রক্ষা করা সম্ভব।