ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভূমধ্যসাগরে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু; গ্রিস উপকূলে শোকের ছায়া

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে মৃত্যু ১৮ বাংলাদেশির

ছবি : সংগৃহীত

 

উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিস উপকূলে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে ১৮ জন বাংলাদেশিসহ অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্ট গার্ড ও উদ্ধারকারী দল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূমধ্যসাগরের অন্যতম বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের দক্ষিণ উপকূল থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও বাকিদের সলিল সমাধি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণে বেঁচে ফেরা প্রবাসীরা।

 

গ্রিস কোস্ট গার্ডের ভাষ্যমতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীফ্রন্টেক্স’-এর একটি জাহাজ ইয়েরাপেত্রা শহর থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি রাবারের নৌকাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। এছাড়া চারজন দক্ষিণ সুদান ও একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন নারী ও শিশুও রয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল তাঁদের ছোট নৌকাটি। দীর্ঘ ছয় দিন ধরে গভীর সমুদ্রে কোনো খাদ্য বা পানীয় ছাড়াই ভেসে ছিলেন তাঁরা। চরম ক্লান্তি, ক্ষুধা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় একে একে ২২ জন যাত্রী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো মাঝসমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

 

নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন- রনারচরের মুজিবুর রহমান (৪৫), তারাপাশা এলাকার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং মো. সাহান (২৫) এই সংবাদ এলাকায় পৌঁছালে পরিবারগুলোতে শোকের মাতম শুরু হয়েছে। জীবিকার সন্ধানে ঘর ছাড়া সন্তানদের নিথর দেহ এখন অতল সমুদ্রের তলায়, যা মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।

 

গ্রিক কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে দক্ষিণ সুদানের দুই মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের মৃত্যুর হার গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আইওএমএর তথ্যমতে, জানুয়ারিফেব্রুয়ারিতেই ৫৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি বাড়ালেও দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়া থামছে না, যা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ভূমধ্যসাগরে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু; গ্রিস উপকূলে শোকের ছায়া

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে মৃত্যু ১৮ বাংলাদেশির

Update Time : ১০:২২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিস উপকূলে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে ১৮ জন বাংলাদেশিসহ অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্ট গার্ড ও উদ্ধারকারী দল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূমধ্যসাগরের অন্যতম বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের দক্ষিণ উপকূল থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও বাকিদের সলিল সমাধি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণে বেঁচে ফেরা প্রবাসীরা।

 

গ্রিস কোস্ট গার্ডের ভাষ্যমতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীফ্রন্টেক্স’-এর একটি জাহাজ ইয়েরাপেত্রা শহর থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি রাবারের নৌকাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। এছাড়া চারজন দক্ষিণ সুদান ও একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন নারী ও শিশুও রয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল তাঁদের ছোট নৌকাটি। দীর্ঘ ছয় দিন ধরে গভীর সমুদ্রে কোনো খাদ্য বা পানীয় ছাড়াই ভেসে ছিলেন তাঁরা। চরম ক্লান্তি, ক্ষুধা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় একে একে ২২ জন যাত্রী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো মাঝসমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

 

নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন- রনারচরের মুজিবুর রহমান (৪৫), তারাপাশা এলাকার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং মো. সাহান (২৫) এই সংবাদ এলাকায় পৌঁছালে পরিবারগুলোতে শোকের মাতম শুরু হয়েছে। জীবিকার সন্ধানে ঘর ছাড়া সন্তানদের নিথর দেহ এখন অতল সমুদ্রের তলায়, যা মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।

 

গ্রিক কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে দক্ষিণ সুদানের দুই মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের মৃত্যুর হার গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আইওএমএর তথ্যমতে, জানুয়ারিফেব্রুয়ারিতেই ৫৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি বাড়ালেও দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়া থামছে না, যা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।