ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মুক্তিপণ দাবি করে বাবার কাছে মেসেজ, অনুসন্ধানে লার্নাকা সিআইডি

সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্র, অপহরণের আশঙ্কায় তদন্তে পুলিশ

  • আশিষ বৈদ্য
  • Update Time : ১০:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৬২ Time View

শাহরিয়ার আহমেদ ইমন

 

সাইপ্রাসে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) নামে এক তরুণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাথমিক তদন্ত শেষে এটিকে সাধারণ নিখোঁজ নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত অপহরণ, গুম এবং বেআইনিভাবে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে স্বাধীনতা হরণের ঘটনা হিসেবে দেখছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) সাইপ্রাস পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (লার্নাকা সিআইডি) এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই বাংলাদেশি যুবকের একটি ছবি প্রকাশ করেছে এবং তাঁর সন্ধানে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য চেয়েছে।

 

 

পুলিশ ও লার্নাকা সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বা শুক্রবার (১২ জুন) প্রথম কর্মদিবসের কথা বলে লার্নাকার কফিনৌ (Kofinou) এলাকার একটি কারখানায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন শাহরিয়ার। তবে তিনি ঠিক কোন কারখানায় বা কোন নির্দিষ্ট স্থানে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর রুমমেট বা বন্ধুদের স্পষ্ট কিছু জানাননি। এরপর ওই দিন সন্ধ্যার দিকে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তিনি এক বন্ধুকে নিজের একটি সুনির্দিষ্ট ‘লাইভ লোকেশন’ বা অবস্থান বার্তা পাঠান।

 

 

উদ্বেগের বিষয় হলো, ওই মেসেজটি পাঠানোর পর থেকেই শাহরিয়ারের সাথে সব ধরনের স্বাভাবিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বিদেশে অবস্থানরত তাঁর বাবার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত স্থান থেকে একটি কল এবং বেশ কিছু খুদে বার্তা আসে। সেখানে শাহরিয়ারের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই তাঁর মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং অন্যথায় বিপদের হুমকি দেওয়া হয়। ছেলের ফোন থেকে পাঠানো বাবার কাছে সেই শেষ বার্তাটিতে মূলত ‘বাঁচানোর জন্য আকুল সাহায্য’ চাওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের কোনো কলই আর ঢুকছে না।

 

 

লার্নাকা পুলিশের যোগাযোগ শাখা জানিয়েছে, শাহরিয়ারের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে সম্ভাব্য সব ধরনের অপরাধমূলক উপাদান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের সব পথই খোলা রেখেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে লার্নাকা সিআইডির একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল ও সম্ভাব্য যাতায়াতের রুটের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা শুরু করেছে। একই সাথে নিখোঁজ যুবকের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সিগন্যাল ট্র্যাক করে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই তরুণ বাংলাদেশির বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা যেন অবিলম্বে লার্নাকা পুলিশ স্টেশনের ২৪৮০৪০৬০ নম্বর বা নিকটস্থ থানায় জানানো হয়।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

মুক্তিপণ দাবি করে বাবার কাছে মেসেজ, অনুসন্ধানে লার্নাকা সিআইডি

সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্র, অপহরণের আশঙ্কায় তদন্তে পুলিশ

Update Time : ১০:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

শাহরিয়ার আহমেদ ইমন

 

সাইপ্রাসে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) নামে এক তরুণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাথমিক তদন্ত শেষে এটিকে সাধারণ নিখোঁজ নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত অপহরণ, গুম এবং বেআইনিভাবে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে স্বাধীনতা হরণের ঘটনা হিসেবে দেখছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) সাইপ্রাস পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (লার্নাকা সিআইডি) এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই বাংলাদেশি যুবকের একটি ছবি প্রকাশ করেছে এবং তাঁর সন্ধানে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য চেয়েছে।

 

 

পুলিশ ও লার্নাকা সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বা শুক্রবার (১২ জুন) প্রথম কর্মদিবসের কথা বলে লার্নাকার কফিনৌ (Kofinou) এলাকার একটি কারখানায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন শাহরিয়ার। তবে তিনি ঠিক কোন কারখানায় বা কোন নির্দিষ্ট স্থানে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর রুমমেট বা বন্ধুদের স্পষ্ট কিছু জানাননি। এরপর ওই দিন সন্ধ্যার দিকে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তিনি এক বন্ধুকে নিজের একটি সুনির্দিষ্ট ‘লাইভ লোকেশন’ বা অবস্থান বার্তা পাঠান।

 

 

উদ্বেগের বিষয় হলো, ওই মেসেজটি পাঠানোর পর থেকেই শাহরিয়ারের সাথে সব ধরনের স্বাভাবিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বিদেশে অবস্থানরত তাঁর বাবার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত স্থান থেকে একটি কল এবং বেশ কিছু খুদে বার্তা আসে। সেখানে শাহরিয়ারের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই তাঁর মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং অন্যথায় বিপদের হুমকি দেওয়া হয়। ছেলের ফোন থেকে পাঠানো বাবার কাছে সেই শেষ বার্তাটিতে মূলত ‘বাঁচানোর জন্য আকুল সাহায্য’ চাওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের কোনো কলই আর ঢুকছে না।

 

 

লার্নাকা পুলিশের যোগাযোগ শাখা জানিয়েছে, শাহরিয়ারের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে সম্ভাব্য সব ধরনের অপরাধমূলক উপাদান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের সব পথই খোলা রেখেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে লার্নাকা সিআইডির একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল ও সম্ভাব্য যাতায়াতের রুটের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা শুরু করেছে। একই সাথে নিখোঁজ যুবকের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সিগন্যাল ট্র্যাক করে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই তরুণ বাংলাদেশির বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা যেন অবিলম্বে লার্নাকা পুলিশ স্টেশনের ২৪৮০৪০৬০ নম্বর বা নিকটস্থ থানায় জানানো হয়।