ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নতুন সরকারকে প্রশাসন সাজানোর সুযোগ দিতে চান উপাচার্য; তবে ধারাবাহিকতা রক্ষায় আরও কিছুদিন থাকতেও রাজি

সরে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিলেন ঢাবি উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান তাঁর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। তবে উপাচার্য স্পষ্ট করেছেন যে, নবনির্বাচিত সরকার চাইলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং কোনো ধরণের শূন্যতা এড়াতে তিনি আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী এক বিশেষ আপদকালীন পরিস্থিতিতে আমি এই মহান দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম। আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছি। বর্তমান পর্যায়ে এসে আমি মনে করি, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের জন্য প্রশাসন সাজানোর পথ সুগম করে দেওয়া উচিত। সেই লক্ষ্যেই আমি সরে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিচ্ছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা যদি ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজনে আমাকে আরও কিছুদিন রাখতে চান, তবে আমি তা বিবেচনা করব।

 

. নিয়াজ আহমদ খান আরও জানান, তিনি মৌখিকভাবে তাঁর ইচ্ছার কথা জানালেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি রুটিন দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং নতুন প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা বজায় রাখবেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামালের পদত্যাগের পর ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানকে সাময়িকভাবে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩এর আর্টিকেল ১১() অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে তাঁকে এই পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্যের এই ঘোষণা ঢাবি ক্যাম্পাসে নতুন প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন সরকারকে প্রশাসন সাজানোর সুযোগ দিতে চান উপাচার্য; তবে ধারাবাহিকতা রক্ষায় আরও কিছুদিন থাকতেও রাজি

সরে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিলেন ঢাবি উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান

Update Time : ০১:১৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান তাঁর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। তবে উপাচার্য স্পষ্ট করেছেন যে, নবনির্বাচিত সরকার চাইলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং কোনো ধরণের শূন্যতা এড়াতে তিনি আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী এক বিশেষ আপদকালীন পরিস্থিতিতে আমি এই মহান দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম। আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছি। বর্তমান পর্যায়ে এসে আমি মনে করি, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের জন্য প্রশাসন সাজানোর পথ সুগম করে দেওয়া উচিত। সেই লক্ষ্যেই আমি সরে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিচ্ছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা যদি ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজনে আমাকে আরও কিছুদিন রাখতে চান, তবে আমি তা বিবেচনা করব।

 

. নিয়াজ আহমদ খান আরও জানান, তিনি মৌখিকভাবে তাঁর ইচ্ছার কথা জানালেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি রুটিন দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং নতুন প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা বজায় রাখবেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামালের পদত্যাগের পর ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানকে সাময়িকভাবে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩এর আর্টিকেল ১১() অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে তাঁকে এই পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্যের এই ঘোষণা ঢাবি ক্যাম্পাসে নতুন প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।