জাতীয় দলের হয়ে সাকিব আল হাসানের মাঠে ফেরা নিয়ে চলা অনিশ্চয়তার মেঘ অবশেষে কাটল। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভা শেষে জানানো হয়েছে, পরবর্তী সিরিজ থেকেই সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলের জন্য নির্বাচন করা হবে। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, এখন থেকে দেশ ও বিদেশের সব সিরিজের জন্যই সাকিবকে বিবেচনা করা হবে। তবে এর জন্য তাঁর শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারকে পুনরায় বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনা হবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারলেও ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই ক্রিকেটের রাজপুত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটবে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে যে আইনি ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়েও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। বিসিবি জানিয়েছে, সাকিবের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো বোর্ড আইনিভাবে মোকাবিলা করবে। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে সর্বশেষ দেশের জার্সিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এরপর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিদায়ী টেস্ট খেলার কথা থাকলেও জনরোষ ও নিরাপত্তার শঙ্কায় দুবাই থেকেই তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয়েছিল।
সম্প্রতি দুবাই থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানিয়েছিলেন, তিনি দেশের মাটিতে চেনা দর্শকদের সামনে খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চান। বিসিবির আজকের এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণের পথ প্রশস্ত হলো। বোর্ড সাকিবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁকে মাঠের লড়াইয়ে ফেরাতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর সাকিবের ফেরার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। এখন সবার নজর মার্চের পাকিস্তান সিরিজের দিকে, যেখানে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বল ও ব্যাটে চেনা ছন্দে ফেরার চ্যালেঞ্জ থাকবে সাকিবের সামনে।















