ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা, লঘুচাপের প্রভাব অব্যাহত

সব বিভাগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর

ফাল্গুনের বিদায়লগ্নে সারা দেশের প্রকৃতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এরই মধ্যে দেশের আটটি বিভাগেই ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি।

 

আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সাথে এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। হঠাৎ করে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে মৌসুমি ফসল ও জনজীবনে কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

তাপমাত্রার বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোরের দিকে কুয়াশার দাপট কমে আসলেও বৃষ্টির প্রভাবে গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে মেঘের ঘনঘটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এই দুই লঘুচাপের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে, যা বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

 

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মার্চ মাস মূলত কালবৈশাখীর প্রাক-প্রস্তুতির সময়। তাই এ সময় হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। নদীপথে যাতায়াতকারী নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের কর্তনযোগ্য ফসল রক্ষায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান ও আম চাষিদের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ ও শঙ্কা—উভয়ই বয়ে আনতে পারে। যদি শিলাবৃষ্টি হয়, তবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা, লঘুচাপের প্রভাব অব্যাহত

সব বিভাগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর

Update Time : ০২:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ফাল্গুনের বিদায়লগ্নে সারা দেশের প্রকৃতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এরই মধ্যে দেশের আটটি বিভাগেই ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি।

 

আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সাথে এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। হঠাৎ করে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে মৌসুমি ফসল ও জনজীবনে কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

তাপমাত্রার বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোরের দিকে কুয়াশার দাপট কমে আসলেও বৃষ্টির প্রভাবে গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে মেঘের ঘনঘটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এই দুই লঘুচাপের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে, যা বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

 

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মার্চ মাস মূলত কালবৈশাখীর প্রাক-প্রস্তুতির সময়। তাই এ সময় হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। নদীপথে যাতায়াতকারী নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের কর্তনযোগ্য ফসল রক্ষায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান ও আম চাষিদের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ ও শঙ্কা—উভয়ই বয়ে আনতে পারে। যদি শিলাবৃষ্টি হয়, তবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।