ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যাত্রা শুরু ত্রয়োদশ সংসদের; অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন ড. মোশাররফ

সংসদ হবে সব সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্র: প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

 

দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদই হবে দেশের সব যুক্তিতর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের একমাত্র প্রাণকেন্দ্র। রাজপথ নয়, বরং সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এক বিশেষ সাংবিধানিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবীণ সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তৎকালীন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি; তারা হয় কারাগারে নতুবা পলাতক। এমন নজিরবিহীন সংকটে ১৯৭৩ সালের সংসদীয় রীতির উদাহরণ টেনে তিনি বর্ষীয়ান নেতা ড. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালনার প্রস্তাব দেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সকল বীর আত্মাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা এই দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা আয়নাঘরের মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্রের আলো ফিরে এসেছে।এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে অভিহিত করেন এবং আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, আপসহীন এই নেত্রী বর্তমানের এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারলেন না।

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়এটাই আমাদের রাজনীতির মূল দর্শন।তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই সংসদে সমগ্র ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও একটি সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে কোনো বিভেদ রাখা চলবে না। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন। দেড় দশক পর একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদের এই সূচনা বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন করল।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যাত্রা শুরু ত্রয়োদশ সংসদের; অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন ড. মোশাররফ

সংসদ হবে সব সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্র: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৯:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদই হবে দেশের সব যুক্তিতর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের একমাত্র প্রাণকেন্দ্র। রাজপথ নয়, বরং সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এক বিশেষ সাংবিধানিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবীণ সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তৎকালীন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি; তারা হয় কারাগারে নতুবা পলাতক। এমন নজিরবিহীন সংকটে ১৯৭৩ সালের সংসদীয় রীতির উদাহরণ টেনে তিনি বর্ষীয়ান নেতা ড. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালনার প্রস্তাব দেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সকল বীর আত্মাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা এই দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা আয়নাঘরের মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্রের আলো ফিরে এসেছে।এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে অভিহিত করেন এবং আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, আপসহীন এই নেত্রী বর্তমানের এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারলেন না।

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়এটাই আমাদের রাজনীতির মূল দর্শন।তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই সংসদে সমগ্র ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও একটি সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে কোনো বিভেদ রাখা চলবে না। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন। দেড় দশক পর একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদের এই সূচনা বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন করল।