রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “এক পক্ষ চলে গেছে ঠিকই, কিন্তু আরেক পক্ষ রয়ে গেছে। তাই আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষায় ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে।” আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে ভোরে ভোট শুরু হওয়া মাত্রই ধানের শীষে রায় নিশ্চিত করতে হবে।
জনসভায় কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করা হবে। শহীদ জিয়াউর রহমান ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করেছিলেন, আমরা সেই সুবিধা দ্বিগুণ করব। এছাড়া পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষককে ‘কৃষি কার্ড’ প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে বীজ ও সার সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষিপণ্য কম খরচে ঢাকা পাঠানোর জন্য রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
নারীদের সামাজিক সুরক্ষা ও চিকিৎসায় গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “গ্রামের মায়েরা উন্নত চিকিৎসা পান না। আমরা গ্রামে হেলথকেয়ার সেন্টার করব যাতে ছোটখাটো অসুখ ঘরে বসেই নিরাময় করা যায়।” শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়াই লক্ষ্য নয়, আইটি সেক্টর ও খেলাধুলাকেও পেশা হিসেবে নিতে হবে। বিদেশি অনেক আইটি কোম্পানি দেশে আসতে চায়, যেখানে দক্ষ তরুণরা বড় আয়ের সুযোগ পাবে।
জনসভায় নওগাঁর স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শিশু হাসপাতাল ও আত্রাই নদীর ওপর সেতুসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। তারেক রহমান আশ্বাস দেন, ধানের শীষকে বিজয়ী করলে পর্যায়ক্রমে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া ইমাম-মোয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতার ব্যবস্থাও করা হবে বলে তিনি জানান। জনসভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন, যাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার শপথ নেন।















