ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টর্পেডো হামলায় ধ্বংস ‘দেনা’, উপকূলে মিলল ৮৪ জনের মরদেহ

শ্রীলঙ্কায় আরও ২০৮ ইরানি ক্রু উদ্ধার: ঘনীভূত হচ্ছে সংকট

ইরানের জাহাজের কাছে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী নৌযান।

 

শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসীমায় একের পর এক ইরানি জাহাজ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক রহস্যময় ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। গত ৪ মার্চ ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডোর আঘাতে ডুবে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার ‘আইআরআইএস বুশেহর’ নামের আরেকটি জাহাজ থেকে ২০৮ জন ক্রুকে উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী।

 

শুক্রবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে লঙ্কান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে জানান, ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস বুশেহর’ বর্তমানে কলম্বো বন্দরের নিকটবর্তী শ্রীলঙ্কার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ) এলাকায় নোঙর করে আছে।

 

জাহাজটি জরুরি ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি চেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস এবং লঙ্কান সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর জাহাজের ক্যাপ্টেন ক্রুদের তীরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উদ্ধারকৃত ২০৮ জন ক্রুকে বর্তমানে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের পরবর্তীতে ত্রিনকোমালি বন্দর এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

এদিকে, গত ৪ মার্চ টর্পেডো হামলার শিকার হওয়া অন্য একটি ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ নিয়ে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছেন শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ। তিনি জানান, মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত ওই জাহাজে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে গলে (Galle) জাতীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরবর্তীতে সমুদ্র থেকে ৮৪ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই মরদেহগুলো বর্তমানে গলে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিখোঁজ বাকিদের সন্ধানে এখনো তল্লাশি চালাচ্ছে নৌবাহিনী।

 

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে তারা সাবমেরিন টর্পেডো ব্যবহার করে ইরানি জাহাজটি ডুবিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সামরিক উত্তেজনার মাঝে শ্রীলঙ্কার উপকূল এখন এক মানবিক ও কূটনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এবং অন্যদিকে আরেকটি জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 

উদ্ধারকৃত ক্রুদের জাতীয়তা এবং জাহাজের প্রকৃত গন্তব্য নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। দক্ষিণ এশীয় এই অঞ্চলে বড় কোনো সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

 

সূত্র: বিবিসি

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

টর্পেডো হামলায় ধ্বংস ‘দেনা’, উপকূলে মিলল ৮৪ জনের মরদেহ

শ্রীলঙ্কায় আরও ২০৮ ইরানি ক্রু উদ্ধার: ঘনীভূত হচ্ছে সংকট

Update Time : ০৭:১৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

ইরানের জাহাজের কাছে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী নৌযান।

 

শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসীমায় একের পর এক ইরানি জাহাজ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক রহস্যময় ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। গত ৪ মার্চ ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডোর আঘাতে ডুবে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার ‘আইআরআইএস বুশেহর’ নামের আরেকটি জাহাজ থেকে ২০৮ জন ক্রুকে উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী।

 

শুক্রবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে লঙ্কান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে জানান, ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস বুশেহর’ বর্তমানে কলম্বো বন্দরের নিকটবর্তী শ্রীলঙ্কার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ) এলাকায় নোঙর করে আছে।

 

জাহাজটি জরুরি ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি চেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস এবং লঙ্কান সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর জাহাজের ক্যাপ্টেন ক্রুদের তীরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উদ্ধারকৃত ২০৮ জন ক্রুকে বর্তমানে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের পরবর্তীতে ত্রিনকোমালি বন্দর এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

এদিকে, গত ৪ মার্চ টর্পেডো হামলার শিকার হওয়া অন্য একটি ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ নিয়ে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছেন শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ। তিনি জানান, মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত ওই জাহাজে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে গলে (Galle) জাতীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরবর্তীতে সমুদ্র থেকে ৮৪ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই মরদেহগুলো বর্তমানে গলে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিখোঁজ বাকিদের সন্ধানে এখনো তল্লাশি চালাচ্ছে নৌবাহিনী।

 

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে তারা সাবমেরিন টর্পেডো ব্যবহার করে ইরানি জাহাজটি ডুবিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সামরিক উত্তেজনার মাঝে শ্রীলঙ্কার উপকূল এখন এক মানবিক ও কূটনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এবং অন্যদিকে আরেকটি জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 

উদ্ধারকৃত ক্রুদের জাতীয়তা এবং জাহাজের প্রকৃত গন্তব্য নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। দক্ষিণ এশীয় এই অঞ্চলে বড় কোনো সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

 

সূত্র: বিবিসি