সংগৃহীত ছবি
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার (১ মার্চ, ২০২৬) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুদকের উপ-পরিচালক মো. খাইরুল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করবেন।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শেখ সেলিমের নামে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের কোনো বৈধ উৎস নেই। এই প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কেবল শেখ সেলিমই নন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নামেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের হদিস পাওয়ার সন্দেহ করছে কমিশন।
তদন্তের স্বার্থে শেখ সেলিমের পরিবারের চার সদস্যকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন— তাঁর স্ত্রী ফাতেমা সেলিম, দুই ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম ও শেখ ফজলে নাঈম এবং মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের সঠিক হিসাব দিতে ব্যর্থ হলে বা ভুল তথ্য প্রদান করলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদক সূত্রে আরও জানা গেছে, সংসদ সদস্য থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকার টেন্ডার কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন শেখ সেলিম। পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে কমিশন নিতেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে আজ তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।

অনলাইন ডেস্ক 














