ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মন্ত্রিসভা ও সর্বস্তরের জনতার ঢলে সিক্ত শহিদ বেদি

শহিদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা: অবরুদ্ধ একুশ আজ মুক্ত

দীর্ঘ দেড় দশক পর এক ভিন্ন আমেজে এবংমুক্তপরিবেশে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করছে জাতি। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তাঁর সঙ্গে থাকা নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “দীর্ঘদিন পর একুশে আজ অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত। ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতাকলে যে একুশকে বন্দি করা হয়েছিল, আজ তা জনগণের কাছে ফিরে এসেছে।

 

এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ও নির্বাচন কমিশনারগণ এবং তিন বাহিনীর প্রধানসেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকারউজজামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁদের পরপরই বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা শহিদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও দলের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

 

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। রাত ১২টা বাজার আগে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকশিক্ষার্থী, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং হাজারো মানুষ হাতে ফুল নিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও জনস্রোত আছড়ে পড়ে শহিদ মিনারের আশপাশের এলাকাগুলোতে। ব্যানার, ফেস্টুন আর কণ্ঠেআমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারিগান নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ভোর হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার ফুলে ঢেকে যায়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

মন্ত্রিসভা ও সর্বস্তরের জনতার ঢলে সিক্ত শহিদ বেদি

শহিদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা: অবরুদ্ধ একুশ আজ মুক্ত

Update Time : ১২:৩৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ দেড় দশক পর এক ভিন্ন আমেজে এবংমুক্তপরিবেশে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করছে জাতি। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তাঁর সঙ্গে থাকা নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “দীর্ঘদিন পর একুশে আজ অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত। ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতাকলে যে একুশকে বন্দি করা হয়েছিল, আজ তা জনগণের কাছে ফিরে এসেছে।

 

এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ও নির্বাচন কমিশনারগণ এবং তিন বাহিনীর প্রধানসেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকারউজজামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁদের পরপরই বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা শহিদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও দলের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

 

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। রাত ১২টা বাজার আগে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকশিক্ষার্থী, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং হাজারো মানুষ হাতে ফুল নিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও জনস্রোত আছড়ে পড়ে শহিদ মিনারের আশপাশের এলাকাগুলোতে। ব্যানার, ফেস্টুন আর কণ্ঠেআমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারিগান নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ভোর হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার ফুলে ঢেকে যায়।