ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইরান; তবে শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের

শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি ইরান

ছবি : সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার অবসানে আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, ওয়াশিংটনকেঅতিরিক্ত বাড়াবাড়ি এবং হুমকি জাতীয় কথাবার্তাবন্ধ করতে হবে। গতকাল শুক্রবার তুরস্ক সফরে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এই বার্তা দেন। তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক ওই বৈঠকে আরাগচি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি আলোচনার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেন।

 

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও নতুন করে হামলা শুরু করে, তবে তা মোকাবিলা করার মতো পূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।এরপরও তেহরান যে কোনো ধরনের সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে মতবিরোধ মেটাতে আগ্রহী, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি। একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসতে ইচ্ছুক বলে জানান।

 

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে চলা চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। টানা ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে মুখোমুখি হন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। কিন্তু ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা ও ম্যারাথন বৈঠকের পরও কোনো মীমাংসা না হওয়ায় চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হয় তাদের।

 

এরই ধারাবাহিকতায় সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপের ভিত্তি বাটেক্সটহিসেবে কয়েক দিন আগে একটি তিন স্তরের পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল ইরান। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্পের ওই প্রত্যাখ্যানের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। তবে সর্বশেষ এই খসড়া প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে উভয় পক্ষের ছাড় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সংলাপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তেহরান ও ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

 

সূত্র: আল জাজিরা

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইরান; তবে শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের

শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি ইরান

Update Time : ০৯:৩৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার অবসানে আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, ওয়াশিংটনকেঅতিরিক্ত বাড়াবাড়ি এবং হুমকি জাতীয় কথাবার্তাবন্ধ করতে হবে। গতকাল শুক্রবার তুরস্ক সফরে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এই বার্তা দেন। তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক ওই বৈঠকে আরাগচি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি আলোচনার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেন।

 

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও নতুন করে হামলা শুরু করে, তবে তা মোকাবিলা করার মতো পূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।এরপরও তেহরান যে কোনো ধরনের সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে মতবিরোধ মেটাতে আগ্রহী, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি। একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসতে ইচ্ছুক বলে জানান।

 

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে চলা চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। টানা ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে মুখোমুখি হন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। কিন্তু ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা ও ম্যারাথন বৈঠকের পরও কোনো মীমাংসা না হওয়ায় চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হয় তাদের।

 

এরই ধারাবাহিকতায় সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপের ভিত্তি বাটেক্সটহিসেবে কয়েক দিন আগে একটি তিন স্তরের পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল ইরান। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্পের ওই প্রত্যাখ্যানের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। তবে সর্বশেষ এই খসড়া প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে উভয় পক্ষের ছাড় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সংলাপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তেহরান ও ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

 

সূত্র: আল জাজিরা