সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালের মালিক ও প্রখ্যাত মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক মো. ছাব্বির আহমেদ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আবেদন দাখিল করেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
রিমান্ডের আবেদন করা আসামিরা হলেন—মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, ফারুক হোসেন সুমন এবং মো. লিটন মিয়া। এর আগে গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয় এবং আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই চার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মঈন ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১০ এপ্রিল সকালে আসামিরা মামলার বাদীর বাসায় গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে হুমকি দেন এবং দ্রুত টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আবু হানিফ তাঁর ভাইকে খবর দিলে আসামিরা ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন এবং প্রায় ৫০-৬০ জন লোক সমবেত করে হাসপাতালের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা হাসপাতালের সামনে উচ্চস্বরে স্লোগান দিয়ে ডা. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেন। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মানবিক এই চিকিৎসকের প্রতিষ্ঠানে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।















