ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খামেনির প্রাসাদ ধ্বংস; সুপ্রিম লিডারের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় কাঁপছে ইরান; নিহত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইআরজিসি প্রধান

সংগৃহীত ছবি

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালে ইরানজুড়ে এক ভয়াবহ ও আকস্মিক যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত এই হামলায় ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, হামলার শুরুর দিকেই ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাহেদ এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।

 

রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো সুনির্দিষ্ট হামলায় এই দুই শীর্ষ নেতা প্রাণ হারান। এছাড়া ইরানের গোয়েন্দা শাখার প্রধানও এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার পর এক ভাষণে ইরানি জনগণকে তাদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার এবং সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবরটি এসেছে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ দাবি করেছে, খামেনি এই যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খামেনির প্রাসাদ ও দপ্তরটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো তাঁর মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সুপ্রিম লিডারকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখনো বেঁচে আছেন। যদিও খামেনির বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

 

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও এই হামলায় টার্গেট করা হয়েছিল, তবে তিনি নিরাপদ আছেন বলে দাবি করেছে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ। এই হামলার পর ইরানও পাল্টা আঘাত হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

খামেনির প্রাসাদ ধ্বংস; সুপ্রিম লিডারের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় কাঁপছে ইরান; নিহত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইআরজিসি প্রধান

Update Time : ০৯:২২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালে ইরানজুড়ে এক ভয়াবহ ও আকস্মিক যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত এই হামলায় ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, হামলার শুরুর দিকেই ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাহেদ এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।

 

রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো সুনির্দিষ্ট হামলায় এই দুই শীর্ষ নেতা প্রাণ হারান। এছাড়া ইরানের গোয়েন্দা শাখার প্রধানও এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার পর এক ভাষণে ইরানি জনগণকে তাদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার এবং সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবরটি এসেছে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ দাবি করেছে, খামেনি এই যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খামেনির প্রাসাদ ও দপ্তরটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো তাঁর মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সুপ্রিম লিডারকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখনো বেঁচে আছেন। যদিও খামেনির বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

 

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও এই হামলায় টার্গেট করা হয়েছিল, তবে তিনি নিরাপদ আছেন বলে দাবি করেছে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ। এই হামলার পর ইরানও পাল্টা আঘাত হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।