ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অধিকার আদায়ের প্রেরণায় পালিত মহান মে দিবস

মহান মে দিবস আজ

ছবি : সংগৃহীত

 

আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, আনন্দ ও সংহতি প্রকাশের এই দিনটি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেটে দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মসময় ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ। সেই আত্মত্যাগের পথ ধরে ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত শ্রমিকদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রতিবছর দিবসটিকেমে দিবসহিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শ্রমিক সংগঠনগুলো দিনটিকে যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে আসছে।

 

দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তারা শ্রমজীবী মানুষের নিরলস অবদানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে মহান মে দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “১৮৮৬ সালের এই দিনে শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিকদের আত্মত্যাগ আজও আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রেরণা ও শক্তি জোগায়।তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অতীতে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাঁদের কল্যাণে যুগান্তকারী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার শ্রম আইন সংস্কার, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে পেনশন ব্যবস্থা চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব কল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকসমাজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে দেশে ও বিদেশে কর্মরত সকল শ্রমজীবীকর্মজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শ্রমজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রধান অবলম্বন। তাঁদের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতি।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। শ্রমবান্ধব নীতি ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমেই শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস২০২৬ উপলক্ষেও পৃথক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মে দিবসের চেতনাকে ধারণ করে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেই দেশের অর্থনীতি আরও বেগবান হবে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

অধিকার আদায়ের প্রেরণায় পালিত মহান মে দিবস

মহান মে দিবস আজ

Update Time : ১০:৫৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, আনন্দ ও সংহতি প্রকাশের এই দিনটি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেটে দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মসময় ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ। সেই আত্মত্যাগের পথ ধরে ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত শ্রমিকদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রতিবছর দিবসটিকেমে দিবসহিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শ্রমিক সংগঠনগুলো দিনটিকে যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে আসছে।

 

দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তারা শ্রমজীবী মানুষের নিরলস অবদানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে মহান মে দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “১৮৮৬ সালের এই দিনে শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিকদের আত্মত্যাগ আজও আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রেরণা ও শক্তি জোগায়।তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অতীতে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাঁদের কল্যাণে যুগান্তকারী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার শ্রম আইন সংস্কার, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে পেনশন ব্যবস্থা চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব কল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকসমাজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে দেশে ও বিদেশে কর্মরত সকল শ্রমজীবীকর্মজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শ্রমজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রধান অবলম্বন। তাঁদের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতি।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। শ্রমবান্ধব নীতি ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমেই শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস২০২৬ উপলক্ষেও পৃথক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মে দিবসের চেতনাকে ধারণ করে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেই দেশের অর্থনীতি আরও বেগবান হবে।