ছবি: বিবিসি
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পর পর দুটি ভয়াবহ ও অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে কম্পন দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ১ এবং ৭ দশমিক ৫।
আকস্মিক ও নজিরবিহীন এই যমজ ভূমিকম্পে (Twin Earthquakes) কেঁপে উঠেছে পুরো দেশসহ পার্শ্ববর্তী দেশ কলম্বিয়াও। তীব্র কম্পনের পরপরই ভেনেজুয়েলা উপকূলসহ ক্যারিবীয় দ্বীপ আরুবা ও বোনেয়ারের জন্য জরুরি সুনামি সতর্কতা (Tsunami Warning) জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই প্রলয়ঙ্কারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
বিবিসি নিউজ মুন্দোর (স্প্যানিশ ভাষার সংবাদ বিভাগ) কারাকাস প্রতিনিধি নিকোল কোলস্টার ভূমিকম্পের সেই গা শিউরে ওঠা ও হাড়হিম করা মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে বলেন, “আমার পুরো জীবনে অনুভূত হওয়া এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ভয়ংকর ভূমিকম্প। যখন মাটির নিচের গর্জনসহ কম্পনটি শুরু হয়, তখন আমি মধ্য কারাকাসের পালোস গ্রান্দেস এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সপ্তম তলায় আটকা পড়েছিলাম। চোখের সামনে দেখছিলাম জানালার কাচগুলো খসে পড়ছে এবং চারপাশের সবকিছু তীব্রভাবে দুলছে। নিজেকে রক্ষা করার জন্য তখন একমাত্র যে উপায়টি আমার মাথায় এসেছিল তা হলো—প্রধান দরজা এবং একটি পাথরের দেয়ালের মাঝখানে গিয়ে শক্ত করে দাঁড়ানো; কারণ আমার ধারণা ছিল দেয়ালটি বেশ মজবুত।” কোলস্টার আরও জানান, প্রতিবেশীরা যখন জীবন বাঁচাতে সবাইকে নিচে রাস্তায় নেমে আসার জন্য চিৎকার করছিলেন, ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সপ্তম তলার ওই ঘরেই অবরুদ্ধ ছিলেন। তিনি বলেন, “ওই কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমার মনে হয়েছিল, পুরো বহুতল ভবনটি বুঝি এখনই আমার ওপর ধসে পড়বে।”
ভেনেজুয়েলার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার প্রথম ভূকম্পনটি আঘাত হানে রাজধানী কারাকাসের কাছে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের (Yumare) কাছে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় এবং আরও বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি। পর পর দুই আঘাতে শত শত বহুতল ভবন, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আতঙ্কিত লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে ও রাজপথে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে উদ্ধারকারী দলগুলো উপদ্রুত এলাকায় কাজ শুরু করেছে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 













