শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার ও তুরস্কসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইনসগুলো এই অঞ্চলে তাদের সব ধরনের ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে।
পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার কারণে আকাশসীমা অনিরাপদ হয়ে ওঠায় এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কাতার এয়ারওয়েজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাতারের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এর পরপরই তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইনস মধ্যপ্রাচ্যের ১০টি দেশে তাদের সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়।
দেশগুলো হলো— কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইরান এবং জর্ডান। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ এই আকাশপথটি এখন কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
শনিবার ভোরে ইরানে ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক হামলার পর দেশটির বেশ কয়েকটি শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর প্রতিবাদে ইরানও ইসরায়েল অভিমুখে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি, তবে আকাশপথে উড়ন্ত মিসাইল ও ড্রোন থাকায় বেসামরিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।
হঠাৎ করে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দুবাই, দোহা এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী আটকা পড়েছেন। অনেক এয়ারলাইনস তাদের বিমানগুলোকে বিকল্প দীর্ঘ পথে (যেমন আফ্রিকার ওপর দিয়ে) ঘুরিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে ভ্রমণের সময় ও জ্বালানি খরচ উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক 













