রাত পোহালেই বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কারা সরকার গঠন করবে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহলের শেষ নেই। এই আবহেই প্রকাশিত হয়েছে সিএসআই (CSI) ও সাপ্তাহিক সুরমার সর্বশেষ জনমত জরিপ। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ১৭১ থেকে ২২২টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। অন্যদিকে, ৪৬টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় শক্তিশালী অবস্থানে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর।
জরিপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের ৭১টি আসনে প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে; জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৭১ শতাংশ ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আগ্রহী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের মাথায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যমতে, বর্তমানে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নিবন্ধন স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ বাদে ৫০টি দল এই নির্বাচনি লড়াইয়ে শামিল হয়েছে। ২৯৯টি আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন, যার মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন ২৭৩ জন। বিশেষত এবার নারী প্রার্থীদের সংখ্যা ৮১ জন এবং হিজড়া পরিচয়ে ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২ জন, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের একটি ইতিবাচক দিক।
১২ কোটি ৭৭ লাখেরও বেশি ভোটারের এই বিশাল যজ্ঞে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ। দীর্ঘ দেড় বছর পর ব্যালটের মাধ্যমে দেশের শাসনভার কাদের হাতে যাবে, তা নির্ধারণে উন্মুখ হয়ে আছে দেশবাসী। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও নিশ্ছিদ্র নজরদারির মধ্যে আগামীকাল সকাল থেকেই শুরু হবে এই ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













