সংগৃহীত ছবি
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ও প্রলয়ঙ্কারী জোড়া ভূমিকম্পের পর দেশটিতে এখন অনবরত মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ছোট ছোট ভূমিকম্প (আফটারশক) আঘাত হেনে যাচ্ছে। অবিরত এই ভূকম্পন উপদ্রুত এলাকাগুলোর জরুরি উদ্ধার অভিযানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। মাটির নিচে একটু পর পরই তীব্র গর্জন ও ঝাঁকুনি তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া বহুতল ভবন ও ধ্বংসস্তূপের ভেতরে ঢুকে নিখোঁজদের উদ্ধার করতে চরম ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহ মানবিক সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে।
এর আগে স্থানীয় সময় গত বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ১ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো ভেনেজুয়েলা। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে যারা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন কিংবা যারা ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের জন্য রেডক্রসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অনবরত হতে থাকা শত শত আফটারশক এখন উদ্ধারকারীদের জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রেডক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের প্রধান ত্রাণ সমন্বয়ক লয়সি পেস সিএনএনকে পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, “ভেনেজুয়েলায় মাঠপর্যায়ে কাজ করা আমার দলের সঙ্গে যখনই আমি যোগাযোগ করছি, তখনই তারা এক একটি মৃদু বা মাঝারি ভূমিকম্প অনুভব করার কথা জানাচ্ছেন। অর্থাৎ দেশটিতে অব্যাহতভাবে ও বিরতিহীনভাবে আফটারশক হয়ে যাচ্ছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ানক ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে যখনই আমাদের দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বা উদ্ধার কাজের জন্য যাচ্ছে, তাদের জীবন হাতে নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতি ইঞ্চি পথ চলতে হচ্ছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এত ঘন ঘন কম্পন হওয়ার অর্থ হলো—যেসব সাধারণ মানুষ নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে বা অবরুদ্ধ কাউকে খুঁজতে প্রবেশ করছেন, তাদেরও চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকতে হবে।
লয়সি পেস বর্তমান মানবিক সংকটের গভীরতা উল্লেখ করে বলেন, “ভূমিকম্পে ঘর হারানো মানুষগুলো দ্রুত নিজেদের আপন ভিটেমাটিতে ফিরতে চান। তারা আবারও নিরাপদ আশ্রয়ের স্বাদ অনুভব করতে চান। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তাদের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরগুলো আর নিরাপদ নেই। এই ভবনগুলোর একটি বড় অংশই যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার উপক্রম হয়ে আছে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ সবাইকে চরম সতর্ক থাকতে হবে।” এদিকে বড় ধরনের কোনো নতুন বিপর্যয় বা আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ভয়ে ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ মানুষ এখনো বহুতল ভবনে ফিরতে রাজি হননি। তারা তীব্র শীত ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই খোলা মাঠ, স্টেডিয়াম কিংবা রাস্তার পাশে অস্থায়ী তাবু টানিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।















