ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতিফলন দিল্লির বাজেটে; ভুটান ও নেপালে বরাদ্দ বাড়লেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন এই কঠোরতা?

ভারতের বাজেটে বাংলাদেশর জন্য বরাদ্দ কমল ৫০ শতাংশ, বাড়ল ভুটান ও আফগানিস্তানে

ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান বা সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ লোকসভায় যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে বাংলাদেশের জন্য উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে মাত্র ৬০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি গত অর্থবছরের প্রস্তাবিত ১২০ কোটি রুপির তুলনায় ঠিক অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ কম।

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে এই বাজেটে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে দিল্লির শীতল সম্পর্ক এবং সম্প্রতি সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট উত্তজনা এই বরাদ্দ হ্রাসের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে মাত্র ৩৪.৪৮ কোটি রুপি খরচ করা হয়েছিল।

 

অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কমলেও ভারতের অন্যান্য প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ বা প্রতিবেশী প্রথম নীতির আওতায় বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে ভুটান (২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি)। আফগানিস্তানের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫০ কোটি রুপি, যা গত বছরের তুলনায় তিন গুণ। এছাড়া নেপাল (৮০০ কোটি), শ্রীলঙ্কা (৪০০ কোটি) এবং মরিশাসের (৫৫০ কোটি) জন্যও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। মালদ্বীপ ও মিয়ানমারের জন্য বরাদ্দ যথাক্রমে ৫৫০ কোটি ও ৩০০ কোটি রুপি রাখা হয়েছে।

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য এবারের বাজেটে মোট ২২ হাজার ১১৮ কোটি ৯৭ লাখ রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে এই বিশাল বরাদ্দ হ্রাসের বিষয়টি দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে দিল্লির কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে এবারের বাজেটে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনো নতুন তহবিল রাখা হয়নি, যা আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতিফলন দিল্লির বাজেটে; ভুটান ও নেপালে বরাদ্দ বাড়লেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন এই কঠোরতা?

ভারতের বাজেটে বাংলাদেশর জন্য বরাদ্দ কমল ৫০ শতাংশ, বাড়ল ভুটান ও আফগানিস্তানে

Update Time : ১২:৫৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান বা সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ লোকসভায় যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে বাংলাদেশের জন্য উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে মাত্র ৬০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি গত অর্থবছরের প্রস্তাবিত ১২০ কোটি রুপির তুলনায় ঠিক অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ কম।

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে এই বাজেটে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে দিল্লির শীতল সম্পর্ক এবং সম্প্রতি সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট উত্তজনা এই বরাদ্দ হ্রাসের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে মাত্র ৩৪.৪৮ কোটি রুপি খরচ করা হয়েছিল।

 

অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কমলেও ভারতের অন্যান্য প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ বা প্রতিবেশী প্রথম নীতির আওতায় বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে ভুটান (২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি)। আফগানিস্তানের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫০ কোটি রুপি, যা গত বছরের তুলনায় তিন গুণ। এছাড়া নেপাল (৮০০ কোটি), শ্রীলঙ্কা (৪০০ কোটি) এবং মরিশাসের (৫৫০ কোটি) জন্যও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। মালদ্বীপ ও মিয়ানমারের জন্য বরাদ্দ যথাক্রমে ৫৫০ কোটি ও ৩০০ কোটি রুপি রাখা হয়েছে।

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য এবারের বাজেটে মোট ২২ হাজার ১১৮ কোটি ৯৭ লাখ রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে এই বিশাল বরাদ্দ হ্রাসের বিষয়টি দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে দিল্লির কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে এবারের বাজেটে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনো নতুন তহবিল রাখা হয়নি, যা আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।