বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের নতুন অধ্যায় রচিত হলো। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে কিউইদের ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ২৫৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৫৯ রানেই গুটিয়ে দেয় টিম ইন্ডিয়া। তবে এই জয় কেবল একটি শিরোপা নয়, বরং ভারতকে বসিয়েছে রেকর্ডের বরপুত্র হিসেবে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এর আগে কোনো দল যা করতে পারেনি, ভারত এক রাতেই সেই পাঁচটি বিরল রেকর্ড নিজের করে নিয়েছে।
প্রথমত, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার শিরোপা জয়ের অনন্য নজির গড়ল ভারত। এর আগে ২০০৭ এবং ২০২৪ সালে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুবার করে জেতার রেকর্ড টপকে এখন এককভাবে শীর্ষে সূর্যকুমার যাদবের দল। দ্বিতীয়ত, টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে বড় কোনো দল যা আগে করে দেখাতে পারেনি, ভারত তা সম্ভব করেছে। এই প্রথম কোনো দেশ টানা দুটি আসরে (২০২৪ ও ২০২৬) বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ও অস্থির ফরম্যাটে শিরোপা ধরে রাখা যেখানে অসম্ভব মনে করা হতো, ভারত সেখানে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
তৃতীয় রেকর্ডটি ঘরের মাঠের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নয়টি আসর পার হলেও এর আগে কোনো আয়োজক দেশ নিজেদের মাটিতে ট্রফি জিততে পারেনি। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কা ফাইনালে উঠলেও তাদের হৃদয় ভেঙেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত সেই খরা কাটিয়ে নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা প্রথম দেশ হিসেবে ইতিহাস লিখল। উল্লেখ্য, ২০১১ সালেও তারা নিজেদের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছিল। চতুর্থত, এশীয় দেশগুলোর মধ্যে পাঁচটি আইসিসি বিশ্বকাপ (২টি ওয়ানডে ও ৩টি টি–টোয়েন্টি) জয়ী প্রথম দল এখন ভারত। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার যেখানে দুটি করে ট্রফি আছে, ভারত সেখানে এশিয়ায় একচ্ছত্র রাজা। বর্তমানে সারা বিশ্বে কেবল অস্ট্রেলিয়া (৭টি) ভারতের চেয়ে বেশি ট্রফির মালিক।
সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো ভারতের পঞ্চম রেকর্ডটি। টানা তিন বছরে তিনটি ভিন্ন আইসিসি শিরোপা জিতে বিশ্ব শাসন করছে তারা। ২০২৪ সালে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং আজ ২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ- এই হ্যাটট্রিক জয়ে ক্রিকেট বিশ্বের নতুন পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করল টিম ইন্ডিয়া। আহমেদাবাদের নীল সমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে এই পাঁচ রেকর্ড ভারতের ক্রিকেটের স্বর্ণযুগেরই সাক্ষ্য দিচ্ছে।

স্পোর্টস ডেস্ক 
























