আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে এক ‘বিশাল’ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রার্থী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিখ্যাত ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি–কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেশকে পুনর্গঠন করাই হবে তাঁর প্রধান অঙ্গীকার। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন কাজ হবে বলেও তিনি সতর্কবার্তা দেন।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানান, তাঁর সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হবে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করে জনমনে স্বস্তি ফেরাতে চান তিনি। তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম কাজ হলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, যাতে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ বোধ করেন। গত শাসনামলে এদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জ্বালানি খাত এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।”
নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এই নেতা জানান, তিনি জনগণের কাছ থেকে একটি ‘বড় ম্যান্ডেট’ বা নিরঙ্কুশ বিজয়ের আশা করছেন। নিজ কার্যালয়ে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতির সামনে বসে মৃদুভাষী এই রাজনীতিবিদ বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এককভাবে সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন আমরা পাব। এই মুহূর্তে আমাদের বর্তমান জোটের বাইরে নতুন কোনো জোট করার প্রয়োজন দেখছি না।” যদিও মাঠের লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তবুও তারেক রহমান জনগণের রায়ের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎকারটি আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। দীর্ঘ নির্বাসন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনি কেবল আবেগের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো মেরামতের বাস্তবমুখী পরিকল্পনার কথা বলছেন। বৃহস্পতিবারের ভোট কেবল নেতা নির্বাচনের নয়, বরং তারেক রহমানের ভাষায়- এটি দেশকে কক্ষপথে ফেরানোর এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













