ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নির্বাচিতদের হাতে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি; ১৭ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে তরুণদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান

বিজয়ীদের কাছে দ্রুতই ক্ষমতা হস্তান্তর করবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেজুলাই জাতীয় সনদবিষয়ক গণভোটকে কেন্দ্র করে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত এই ভাষণে তিনি জনগণকে কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই স্বাধীন চিত্তে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সরকার বিদায় নেবে।

 

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তরুণ ও নারী ভোটারদের ওপর। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত প্রজন্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। এমন এক বাস্তবতায় আপনারা বড় হয়েছেন যেখানে ভোটের কেবল মুখোশ ছিল, কিন্তু প্রকৃত ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল কিন্তু ভোটার ছিল না।এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে তরুণরাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

দেশের অর্থনীতি ও সমাজ গঠনে নারীদের অবদানের প্রশংসা করে ড. ইউনূস বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান- সবখানেই নারীরা সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত এবং অর্থনীতির চালিকাশক্তিই হলেন আমাদের নারীরা।তিনি ক্ষুদ্র ঋণ ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে সাবলম্বী হওয়ার গল্পগুলোকে নতুন বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা হিসেবে অভিহিত করেন।

 

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই নির্বাচন ও গণভোট কেবল সরকার গঠনের নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক দলিল। তিনি দেশবাসীকে শান্তি ও শৃঙ্খলার সাথে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের রায় দেওয়ার অনুরোধ জানান। ড. ইউনূসের এই ভাষণ নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিবেশে এক বিশেষ প্রাণসঞ্চার করেছে এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

নির্বাচিতদের হাতে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি; ১৭ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে তরুণদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান

বিজয়ীদের কাছে দ্রুতই ক্ষমতা হস্তান্তর করবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

Update Time : ১১:২৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেজুলাই জাতীয় সনদবিষয়ক গণভোটকে কেন্দ্র করে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত এই ভাষণে তিনি জনগণকে কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই স্বাধীন চিত্তে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সরকার বিদায় নেবে।

 

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তরুণ ও নারী ভোটারদের ওপর। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত প্রজন্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। এমন এক বাস্তবতায় আপনারা বড় হয়েছেন যেখানে ভোটের কেবল মুখোশ ছিল, কিন্তু প্রকৃত ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল কিন্তু ভোটার ছিল না।এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে তরুণরাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

দেশের অর্থনীতি ও সমাজ গঠনে নারীদের অবদানের প্রশংসা করে ড. ইউনূস বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান- সবখানেই নারীরা সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত এবং অর্থনীতির চালিকাশক্তিই হলেন আমাদের নারীরা।তিনি ক্ষুদ্র ঋণ ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে সাবলম্বী হওয়ার গল্পগুলোকে নতুন বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা হিসেবে অভিহিত করেন।

 

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই নির্বাচন ও গণভোট কেবল সরকার গঠনের নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক দলিল। তিনি দেশবাসীকে শান্তি ও শৃঙ্খলার সাথে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের রায় দেওয়ার অনুরোধ জানান। ড. ইউনূসের এই ভাষণ নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিবেশে এক বিশেষ প্রাণসঞ্চার করেছে এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।