ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার জামানত ও নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা; শর্ত ভঙ্গ করলে মিলবে না বন্ডের টাকা

বাংলাদেশিদের জন্য ৩ মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা: কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ নিয়ম

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন থেকে অভিবাসন প্রত্যাশী বা নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি এবং মাত্র একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম সংক্রান্ত এক বার্তায় এই নতুন নিয়ম ঘোষণা করে। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে অবস্থান (ওভারস্টে) করেন, তাদের নিরুৎসাহিত করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

নতুন এই ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থার আওতায় আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হলে তাকে ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত বা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। ভিসার জন্য সবুজ সংকেত পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে শর্ত হচ্ছে, যাত্রী যদি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কর্মসংস্থানে লিপ্ত না হন, তবে ওই জামানতের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, ভুটান, নাইজেরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের জন্য এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও যাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশি নাগরিকরা কেবল তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর—বোস্টন লোগান (BOS), জন এফ কেনেডি (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস (IAD) ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। এই নির্ধারিত পথ ব্যতিরেকে অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন পাইলট প্রোগ্রামের ফলে সাধারণ বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে দাঁড়াল।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার জামানত ও নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা; শর্ত ভঙ্গ করলে মিলবে না বন্ডের টাকা

বাংলাদেশিদের জন্য ৩ মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা: কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ নিয়ম

Update Time : ০৯:৪১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন থেকে অভিবাসন প্রত্যাশী বা নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি এবং মাত্র একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম সংক্রান্ত এক বার্তায় এই নতুন নিয়ম ঘোষণা করে। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে অবস্থান (ওভারস্টে) করেন, তাদের নিরুৎসাহিত করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

নতুন এই ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থার আওতায় আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হলে তাকে ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত বা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। ভিসার জন্য সবুজ সংকেত পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে শর্ত হচ্ছে, যাত্রী যদি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কর্মসংস্থানে লিপ্ত না হন, তবে ওই জামানতের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, ভুটান, নাইজেরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের জন্য এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও যাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশি নাগরিকরা কেবল তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর—বোস্টন লোগান (BOS), জন এফ কেনেডি (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস (IAD) ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। এই নির্ধারিত পথ ব্যতিরেকে অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন পাইলট প্রোগ্রামের ফলে সাধারণ বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে দাঁড়াল।