ঢাকা , সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা: বন্ধ হলো বাংলাদেশিদের সব ক্যাটাগরির ভিসা

বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা স্থগিত

ছবি : সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সোমবার (২৩ মার্চ) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিশেষ বার্তায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিবাসী (Immigrant) ভিসার পাশাপাশি পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেল। মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক ও জনসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

 

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে এই স্থগিতাদেশের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো তাদের করদাতাদের স্বার্থ রক্ষা করা। সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অবৈধভাবে বা অন্যায্য উপায়ে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা (Public Welfare Benefits) গ্রহণ করছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম উপরের সারিতে থাকায় মার্কিন প্রশাসন তাদের অভিবাসন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত সরকারি কল্যাণ সুবিধার ওপর বাড়তি চাপ কমানো এবং করদাতাদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পথে হাঁটল ওয়াশিংটন।

 

এই স্থগিতাদেশের ব্যাপ্তি কেবল অভিবাসী ভিসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটক ভিসা (B1/B2), শিক্ষার্থী ভিসা (F/M/J) এবং অন্যান্য সকল ননইমিগ্র্যান্ট ভিসাও এই প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত থাকবে। এর ফলে যারা উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কিংবা ব্যবসায়িক ও পারিবারিক কারণে ভ্রমণের অপেক্ষায় ছিলেন, তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, এই সাময়িক স্থগিতাদেশের সময়কালে ভিসা যাচাই ও বাছাই প্রক্রিয়ার একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হবে। লক্ষ্য হলো এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

 

উল্লেখ্য, এই সিদ্ধান্ত কতদিন কার্যকর থাকবে কিংবা কবে নাগাদ পুনরায় ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। হঠাৎ করে এমন ঘোষণায় ঢাকার কনস্যুলার সেকশনে থাকা কয়েক হাজার পেন্ডিং ফাইল এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ইতিপূর্বেই ভিসার ফি জমা দিয়েছেন বা ইন্টারভিউয়ের জন্য তারিখ পেয়েছিলেন, তারা এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সামগ্রিক বৈদেশিক সম্পর্ক ও জনশক্তি রপ্তানির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা: বন্ধ হলো বাংলাদেশিদের সব ক্যাটাগরির ভিসা

বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা স্থগিত

Update Time : ১০:০৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সোমবার (২৩ মার্চ) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিশেষ বার্তায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিবাসী (Immigrant) ভিসার পাশাপাশি পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেল। মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক ও জনসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

 

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে এই স্থগিতাদেশের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো তাদের করদাতাদের স্বার্থ রক্ষা করা। সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অবৈধভাবে বা অন্যায্য উপায়ে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা (Public Welfare Benefits) গ্রহণ করছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম উপরের সারিতে থাকায় মার্কিন প্রশাসন তাদের অভিবাসন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত সরকারি কল্যাণ সুবিধার ওপর বাড়তি চাপ কমানো এবং করদাতাদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পথে হাঁটল ওয়াশিংটন।

 

এই স্থগিতাদেশের ব্যাপ্তি কেবল অভিবাসী ভিসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটক ভিসা (B1/B2), শিক্ষার্থী ভিসা (F/M/J) এবং অন্যান্য সকল ননইমিগ্র্যান্ট ভিসাও এই প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত থাকবে। এর ফলে যারা উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কিংবা ব্যবসায়িক ও পারিবারিক কারণে ভ্রমণের অপেক্ষায় ছিলেন, তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, এই সাময়িক স্থগিতাদেশের সময়কালে ভিসা যাচাই ও বাছাই প্রক্রিয়ার একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হবে। লক্ষ্য হলো এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

 

উল্লেখ্য, এই সিদ্ধান্ত কতদিন কার্যকর থাকবে কিংবা কবে নাগাদ পুনরায় ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। হঠাৎ করে এমন ঘোষণায় ঢাকার কনস্যুলার সেকশনে থাকা কয়েক হাজার পেন্ডিং ফাইল এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ইতিপূর্বেই ভিসার ফি জমা দিয়েছেন বা ইন্টারভিউয়ের জন্য তারিখ পেয়েছিলেন, তারা এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সামগ্রিক বৈদেশিক সম্পর্ক ও জনশক্তি রপ্তানির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।