অভূতপূর্ব তুষারঝড় ও হাড়কাঁপানো তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মধ্য ও পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক রাজ্যে জারি করা হয়েছে চরম সতর্কবার্তা। জাতীয় আবহাওয়া সার্ভিস জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে প্রায় ১২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ সরাসরি বিপদের মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে নিউ ইংল্যান্ড, মধ্য-পশ্চিমের বড় শহরগুলো এবং টেক্সাসের কিছু অংশে তুষারপাতের মাত্রা ২০ ইঞ্চি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য জাতীয় গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।
তুষারঝড়ের প্রভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তুষার জমে রাস্তাঘাট পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হওয়ায় বিমানবন্দরগুলোতে আটকা পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী। তুষারঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। হিটিং সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়ায় তীব্র ঠান্ডার মধ্যে বাসিন্দাদের জীবনযাপন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পরিস্থিতিতে হাইপোথার্মিয়া ও ফ্রস্টবাইটের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য।
দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও রেড ক্রসের মতো সংস্থাগুলো গৃহহীন ও অসহায় মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র, গরম খাবার ও শীতবস্ত্র সরবরাহ করছে। স্কুল-কলেজ ও অফিসগুলোর সময়সূচি পরিবর্তন করে মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রকিজ পর্বতমালা থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত এই শৈত্যপ্রবাহ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় (সাপ্লাই চেইন) নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন প্রশাসন জরুরি তহবিল ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।















