ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা; তারেক রহমানের ‘মেরামত’ দর্শনে সাজানো হয়েছে আগামীর বাংলাদেশ

ফ্যামিলি কার্ড ও নতুন কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার: আজ বিএনপির ‘জনমুখী’ ইশতেহার ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এবার তাদের ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ এবং ‘২৭ দফা’র মূল চেতনাকে একীভূত করে এক জনমুখী ইশতেহার তৈরি করেছে। ইশতেহারে মূলত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য বিপ্লব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

বিএনপির এবারের ইশতেহারে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকার সরাসরি আর্থিক সহায়তা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য (চাল, ডাল, তেল ও লবণ) সরবরাহ করা হবে। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্য বদলাতে প্রবর্তন করা হবে ‘কৃষক কার্ড’। এর আওতায় সার, বীজ ও কীটনাশকে ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং কৃষি বীমা সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের জন্যও বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকছে এই রূপরেখায়।

 

স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরণের আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বিএনপি। ইশতেহার অনুযায়ী, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি প্রায় এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই হবে নারী। প্রতিটি জেলা ও মহানগরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।

 

রাজনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে ইশতেহারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার কর্মপরিকল্পনা ইশতেহারে থাকছে। বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নির্বাচন কমিশনের আমূল সংস্কার এবং জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য একটি শক্তিশালী রোডম্যাপ ইশতেহারে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানীর মতো সময়োপযোগী সিদ্ধান্তও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা; তারেক রহমানের ‘মেরামত’ দর্শনে সাজানো হয়েছে আগামীর বাংলাদেশ

ফ্যামিলি কার্ড ও নতুন কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার: আজ বিএনপির ‘জনমুখী’ ইশতেহার ঘোষণা

Update Time : ০১:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এবার তাদের ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ এবং ‘২৭ দফা’র মূল চেতনাকে একীভূত করে এক জনমুখী ইশতেহার তৈরি করেছে। ইশতেহারে মূলত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য বিপ্লব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

বিএনপির এবারের ইশতেহারে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকার সরাসরি আর্থিক সহায়তা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য (চাল, ডাল, তেল ও লবণ) সরবরাহ করা হবে। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্য বদলাতে প্রবর্তন করা হবে ‘কৃষক কার্ড’। এর আওতায় সার, বীজ ও কীটনাশকে ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং কৃষি বীমা সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের জন্যও বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকছে এই রূপরেখায়।

 

স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরণের আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বিএনপি। ইশতেহার অনুযায়ী, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি প্রায় এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই হবে নারী। প্রতিটি জেলা ও মহানগরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।

 

রাজনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে ইশতেহারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার কর্মপরিকল্পনা ইশতেহারে থাকছে। বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নির্বাচন কমিশনের আমূল সংস্কার এবং জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য একটি শক্তিশালী রোডম্যাপ ইশতেহারে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানীর মতো সময়োপযোগী সিদ্ধান্তও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।