ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন হামলায়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৮৫

ছবি : মার্কিন সাউথ কমান্ড

 

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের সন্দেহে একটি নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় নতুন করে আরও তিনজন নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের (সাউথকম) এই ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৮৫ জনে। ড্রাগ কার্টেল রুখতে গিয়ে নির্বিচারে প্রাণহানির এই ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

 

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে কোনো মার্কিন সেনাসদস্য আহত হননি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকরা বলছেন, যেসব নৌকায় হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোতে মাদক পাচারের বিষয়ে কোনো ‘নির্ভরযোগ্য’ বা ‘অকাট্য’ প্রমাণ এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই গভীর সমুদ্রে এভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে আইনি বিশেষজ্ঞরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

 

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় কাউকে লক্ষ্যবস্তু করতে হলে তাকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে প্রমাণিত হতে হয়। কিন্তু এই অভিযানে এমন ব্যক্তিদের ওপরও প্রাণঘাতী হামলা চালানো হচ্ছে, যারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি ছিলেন না। যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই কেবল সন্দেহের বশে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়াকে তারা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।

 

 

উল্লেখ্য, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটি ল্যাটিন আমেরিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। তবে মাদক নির্মূলের এই যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি ও সামরিক শক্তির অতি-ব্যবহার হিতে বিপরীত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে খোদ মার্কিন রাজনীতির অন্দরমহলেও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ১৮৫ জনের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটি একটি পদ্ধতিগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন হামলায়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৮৫

Update Time : ০৪:১৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : মার্কিন সাউথ কমান্ড

 

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের সন্দেহে একটি নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় নতুন করে আরও তিনজন নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের (সাউথকম) এই ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৮৫ জনে। ড্রাগ কার্টেল রুখতে গিয়ে নির্বিচারে প্রাণহানির এই ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

 

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে কোনো মার্কিন সেনাসদস্য আহত হননি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকরা বলছেন, যেসব নৌকায় হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোতে মাদক পাচারের বিষয়ে কোনো ‘নির্ভরযোগ্য’ বা ‘অকাট্য’ প্রমাণ এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই গভীর সমুদ্রে এভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে আইনি বিশেষজ্ঞরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

 

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় কাউকে লক্ষ্যবস্তু করতে হলে তাকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে প্রমাণিত হতে হয়। কিন্তু এই অভিযানে এমন ব্যক্তিদের ওপরও প্রাণঘাতী হামলা চালানো হচ্ছে, যারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি ছিলেন না। যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই কেবল সন্দেহের বশে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়াকে তারা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।

 

 

উল্লেখ্য, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটি ল্যাটিন আমেরিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। তবে মাদক নির্মূলের এই যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি ও সামরিক শক্তির অতি-ব্যবহার হিতে বিপরীত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে খোদ মার্কিন রাজনীতির অন্দরমহলেও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ১৮৫ জনের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটি একটি পদ্ধতিগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।