সংগৃহীত ছবি
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয়ে সুবাতাস বইছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ২২ দিনেই দেশে প্রায় ২৪১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যের বরাতে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এপ্রিলের এই ২২ দিনে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ১৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই হিসেবে বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মূলত ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে (জুলাই মাস) গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৮৬২ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ১০ শতাংশ।
এর আগে গত মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে। মার্চের সেই ধারাবাহিকতা এপ্রিল মাসেও বজায় থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরার আশা করা হচ্ছে।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। মাসের বাকি দিনগুলোতেও এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে এপ্রিল মাস শেষে রেমিট্যান্সের অঙ্ক আরও বড় হবে, যা দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো এবং ডলার সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
















